শৈলকুপা পৌর বাজারে নতুন নেতৃত্বের সূচনা: ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হলো পৌর বাজার। এই বাজারের হাজারো ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবশেষে গঠিত হয়েছে ‘শৈলকুপা পৌর বাজার দোকান মালিক সমিতি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২১ সদস্য বিশিষ্ট এই শক্তিশালী আহ্বায়ক কমিটিতে আবু তালেব মিয়াকে আহ্বায়ক (সভাপতি) এবং সেলিম রেজা ঠান্ডুকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

শৈলকুপা উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে বাজার সমিতির কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। বিশেষ করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার সঠিক সমাধান হচ্ছিল না। প্রায় ১০০% ব্যবসায়ীর দাবি ছিল একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কমিটির। সেই লক্ষ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে আলোচনা করে এই ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এই কমিটি আগামী ৯০ দিন বা ৩ মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। তাদের প্রধান কাজ হবে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা এবং সকল ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবু তালেব মিয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের ওপর যে বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমরা তা শতভাগ নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শৈলকুপা পৌর বাজারে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি স্থায়ী দোকান রয়েছে এবং প্রতিদিন এখানে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়। এত বড় একটি বাজারের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চুরি-ছিনতাই রোধ এবং বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তারা কাজ করতে চান। তিনি আশা করেন, ৩ মাসের মধ্যেই তারা একটি পূর্ণাঙ্গ এবং কার্যকরী নিয়মিত কমিটি উপহার দিতে পারবেন, যারা প্রকৃত অর্থেই ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সদস্য সচিব সেলিম রেজা ঠান্ডু বলেন, “ব্যবসায়ীদের ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে আমরা পড়ে থাকতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।” তিনি জানান, বর্তমানে বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে লোডশেডিং বা সরকারি কর সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবসায়ীরা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। নতুন কমিটি এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করবে। তিনি আরও যোগ করেন, তারা চান বাজারে একটি শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, যেখানে সাধারণ ক্রেতারাও শান্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন। বাজারের প্রতিটি দোকানদার যেন নিজেদের নিরাপদ মনে করেন, সেটিই হবে এই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাজার হচ্ছে একটি এলাকার অর্থনীতির দর্পণ। শৈলকুপার উন্নয়নের জন্য এই বাজারের সচল থাকা জরুরি। তিনি নবগঠিত কমিটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব হলো কোনো ভেদাভেদ না করে সকল ব্যবসায়ীর স্বার্থ দেখা। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হোক, যেখানে ব্যবসায়ীরা তাঁদের পছন্দের নেতা বেছে নেবেন।” তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে কোনো প্রয়োজনে ১০০% সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে বাজারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এই নতুন কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, “বাজার সমিতি না থাকায় আমরা অনেক সময় অভিভাবকহীন বোধ করতাম। এখন অন্তত আমাদের কথা শোনার মতো একটি জায়গা তৈরি হলো।” অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনে করেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে বাজারের নৈশকালীন নিরাপত্তার মান আরও বাড়বে। বর্তমানে বাজারে যে পাহারাদার ব্যবস্থা রয়েছে, সেটিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন কমিটি আসার ফলে বাজারের ফান্ড বা তহবিলের সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলেও সাধারণ সদস্যরা আশা প্রকাশ করছেন।

আহ্বায়ক কমিটির ২১ জন সদস্যই শৈলকুপার সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি। কমিটিতে সহ-আহ্বায়ক ও কার্যকরী সদস্য হিসেবে এমন সব ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে, যাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই তাঁরা আগামী ৩ মাস বাজারের সার্বিক দেখভাল করবেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের এক বিরাট অংশ মনে করছেন, যদি এই ৩ মাসে কমিটি সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে শৈলকুপার ব্যবসায়িক পরিবেশে আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সমিতির ফান্ডের টাকা যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেটে না গিয়ে বাজারের উন্নয়নে ব্যয় হয়।

পরিশেষে বলা যায়, শৈলকুপা পৌর বাজার দোকান মালিক সমিতির এই ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন এক যাত্রার শুরু হলো। আবু তালেব মিয়া ও সেলিম রেজা ঠান্ডুর নেতৃত্বে এই কমিটি ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলে স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন। এখন সবার নজর আগামী ৩ মাসের দিকে, যখন একটি স্বচ্ছ ভোটাধিকারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। শৈলকুপার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

সম্পর্কিত নিবন্ধ