সরজমিন জরিপ করে দেখা যায় শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করে গাড়াগঞ্জ কে উপজেলা করলে একটি বড় অংশের আস্থা হারাবেন আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম বৃহৎ, ঐতিহ্যবাহী এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা হলো শৈলকুপা। কুমার নদের তীরে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বন্ধন যেন এক সুতোর মালায় নিবিড়ভাবে গাঁথা। কিন্তু সম্প্রতি এই শান্ত ও সম্প্রীতির জনপদে একটি গুঞ্জন বা আলোচনা ব্যাপকভাবে ডালপালা মেলেছে, আর তা হলো শৈলকুপা উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘গাড়াগঞ্জ’কে নতুন একটি উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব। উন্নয়নের যুক্তিতে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দোহাই দিয়ে এমন চিন্তাভাবনা সামনে এলেও, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

যেকোনো প্রশাসনিক বা ভৌগোলিক পরিবর্তনের আগে সেই এলাকার সাধারণ মানুষের মতামত এবং তাদের আবেগ-অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি শৈলকুপার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও গাড়াগঞ্জসহ প্রধান হাট-বাজারগুলোতে একটি সরজমিন জরিপ চালিয়ে সাধারণ মানুষের মনের কথা জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। জরিপের ফলাফল অত্যন্ত সুস্পষ্ট শৈলকুপার আপামর জনসাধারণ কোনোভাবেই তাদের প্রিয় ও অখণ্ড উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত হতে দেখতে চায় না। এই জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর যে দিকটি উঠে এসেছে, তা হলো যদি সত্যিই শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করে গাড়াগঞ্জকে উপজেলা করা হয়, তবে এই এলাকার এক বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, এই মাটির সন্তান এবং আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান-এর ওপর থেকে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এই বিভাজনের প্রস্তাব, সাধারণ মানুষের শঙ্কা এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আজ আমরা একটি বিস্তারিত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করব।

শৈলকুপার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও গাড়াগঞ্জের অবস্থান

শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাবটি কেন মানুষের মনে এত বড় আঘাত হেনেছে, তা বুঝতে হলে এই উপজেলার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং গাড়াগঞ্জের ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।

শৈলকুপা শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকার নাম নয়; এটি একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ধারক। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলটি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কৃষিতে এক বিশেষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ‘গাড়াগঞ্জ’ হলো শৈলকুপার অন্যতম প্রধান একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা প্রাণকেন্দ্র। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে গাড়াগঞ্জ একটি ব্যস্ততম হাব বা যোগাযোগের মূল বিন্দু হিসেবে গড়ে উঠেছে। শৈলকুপার অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এই গাড়াগঞ্জ বাজারকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। এখন এই গাড়াগঞ্জকে যদি মূল শৈলকুপা থেকে কেটে নিয়ে আলাদা উপজেলা করা হয়, তবে শৈলকুপা তার অর্থনৈতিক জৌলুস হারাবে এবং সাংস্কৃতিকভাবেও পঙ্গু হয়ে পড়বে।

মানুষের আবেগ ও মাটির টান

বাঙালি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আমাদের শেকড় এবং মাটির প্রতি টান। শৈলকুপার মানুষ নিজেদের পরিচয় দিতে সব সময়ই গর্ববোধ করে। “আমি শৈলকুপার মানুষ” এই একটি বাক্যের মধ্যে যে আবেগ, যে আত্মপরিচয় ও অহংকার লুকিয়ে আছে, তা দ্বিখণ্ডিত হলে অনেকেই হারিয়ে ফেলবে। গাড়াগঞ্জ ও এর আশপাশের মানুষ যুগ যুগ ধরে শৈলকুপার পরিচয়ে বড় হয়েছে। নতুন উপজেলা হলে তাদের একটি নতুন নাম ও নতুন পরিচয়ের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। সরজমিন জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ এই নতুন পরিচয় মেনে নিতে মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত নয়। তাদের কাছে কাল্পনিক উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের এই ঐক্যবদ্ধ আত্মপরিচয় অনেক বেশি মূল্যবান।

গাড়াগঞ্জকে নতুন উপজেলা করার প্রস্তাব: সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

মাঠপর্যায়ে বা সরজমিনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে যে চিত্রটি পাওয়া গেছে, তা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হতে পারে। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে বাজারের ব্যবসায়ী, স্কুলশিক্ষক, তরুণ সমাজ বা গৃহিণী প্রায় সবার কণ্ঠেই এক অদ্ভুত শঙ্কা ও ক্ষোভের সুর।

সরজমিন জরিপের মূল চিত্র

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষ শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, গাড়াগঞ্জ উপজেলা হলে কিছু প্রভাবশালী নেতার বা জমি ব্যবসায়ীদের লাভ হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের এতে কোনো ফায়দা নেই। গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো জানিয়েছেন যে, তারা এক শৈলকুপাতেই ভালো আছেন। তাদের মতে, গাড়াগঞ্জে বড় বড় সরকারি ভবন হলে হয়তো জায়গার দাম বাড়বে, কিন্তু সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির কোনো উন্নতি হবে না। উল্টো নিজেদের আদি পরিচয় হারানোর কষ্ট তাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

কৃষিজীবী ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের শঙ্কা

শৈলকুপা মূলত একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, পিঁয়াজ বা সবজি যুগ যুগ ধরে শৈলকুপা সদর ও গাড়াগঞ্জের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি করে আসছেন। জরিপে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলা ভাগ হলে তাদের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের অলিখিত মানসিক ও সীমানার দেয়াল তৈরি হবে।

অন্যদিকে গাড়াগঞ্জ ও শৈলকুপার ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এলাকা ভাগ হয়ে গেলে তাদের ক্রেতা বা কাস্টমারও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। একটি বড় ও জমজমাট উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য যেভাবে চলে, সেটি ছোট হয়ে গেলে ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হয়ে আসবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শৈলকুপার অনেক ব্যবসায়ী গাড়াগঞ্জে ব্যবসা করেন, আবার গাড়াগঞ্জের অনেক মানুষ শৈলকুপা সদরে ব্যবসা করেন। বিভাজনের ফলে এই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।

দ্বিখণ্ডিত করার নেতিবাচক প্রভাব ও জনদুর্ভোগ

শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করে গাড়াগঞ্জকে উপজেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব শুধু প্রশাসনিক কাগজপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি সমাজ ও রাজনীতির গভীরে এক ভয়াবহ ক্ষত তৈরি করবে।

প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা

উন্নয়নের অন্যতম যুক্তি হিসেবে বলা হয় যে, উপজেলা ভাগ হলে সাধারণ মানুষ সহজে ও দ্রুত প্রশাসনিক সেবা পাবে। কিন্তু সরজমিন জরিপে সাধারণ মানুষ উল্টো ভয়ের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাড়াগঞ্জ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক এলাকা তৈরি হলে ওই এলাকার প্রতিটি মানুষের জমির দলিল, খতিয়ান, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং শিক্ষাগত সনদের ঠিকানায় বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে।

এই ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য সরকারি অফিসগুলোতে দিনের পর দিন যে পরিমাণ হয়রানি, দীর্ঘসূত্রিতা, ঘুষবাণিজ্য এবং ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তা সাধারণ মানুষের জন্য এক চরম যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। জমির সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভাগ হয়ে গেলে পুরোনো দলিলের নকল তোলা বা জমি কেনাবেচায় চরম আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। মানুষ বর্তমান ব্যবস্থায় অভ্যস্ত এবং তারা কোনোভাবেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি নিজেদের ঘাড়ে নিতে চায় না।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে ফাটল

একই উপজেলার মানুষ হিসেবে যুগ যুগ ধরে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি হয়েছে, বিভাজনের ফলে সেখানে এক ধরনের দূরত্বের সৃষ্টি হবে। বিয়ে-শাদি, আত্মীয়তা, এবং বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে “আমরা শৈলকুপার” আর “তারা গাড়াগঞ্জের” নামক একটি বিভেদ রেখা তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, যখনই কোনো অখণ্ড এলাকাকে ভাগ করা হয়, তখন সম্পদ বন্টন, সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি অনুদান পাওয়া নিয়ে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও রেষারেষি শুরু হয়। শৈলকুপার মতো একটি শান্তিময় জনপদে এমন দ্বন্দ্ব কখনোই কাম্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক বিভেদ ও মেরুকরণ

উপজেলা ভাগ হলে স্বাভাবিকভাবেই গাড়াগঞ্জে নতুন একটি রাজনৈতিক কেন্দ্র তৈরি হবে। সেখানে নতুন নেতৃত্বের লড়াই শুরু হবে। এতদিন যারা এক ছাতার নিচে বসে শৈলকুপার রাজনীতি করতেন, তারা বিভক্ত হয়ে পড়বেন। এতে করে দলের ভেতরে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণ কর্মীরা বিভক্ত হয়ে গেলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটির ভিত্তি চিরতরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থার সংকট

এই পুরো প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন শৈলকুপার মাটি ও মানুষের সন্তান, মাননীয় আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি এই এলাকার মানুষের বিপুল ভোট, আবেগ ও ভালোবাসা নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই অর্জনে শৈলকুপার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত গর্বিত।

মানুষ তাঁকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করার জন্য। কিন্তু সরজমিন জরিপে খুব স্পষ্টভাবে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো সাধারণ মানুষ মনে করে, আইন মন্ত্রীর মতো এত ক্ষমতাধর এবং বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি চাইলে সহজেই এই বিভাজনের প্রস্তাবটি বাতিল করে শৈলকুপাকে অখণ্ড রাখতে পারেন।

কেন আস্থার জায়গাটি নড়বড়ে হবে?

সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব খুব সহজ। তারা যখন তাদের প্রিয় নেতাকে তাদের আবেগের জায়গায় পাশে পায় না, তখন তারা খুব দ্রুতই মুখ ফিরিয়ে নেয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী গাড়াগঞ্জ ও শৈলকুপার একটি বিশাল অংশের মানুষ জানিয়েছেন যে, যদি জনমতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে শৈলকুপাকে সত্যিই দ্বিখণ্ডিত করা হয়, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার তারা তাদের অভিভাবক আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের ওপরই চাপাবে।

মানুষের মতে, “যিনি আমাদের অভিভাবক, তিনি কেন আমাদের বিভক্ত হতে দেবেন?” যদি এই বিভাজন ঠেকানো না যায়, তবে আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান শৈলকুপার এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও আস্থা হারাবেন। আগামী দিনের রাজনীতিতে বা নির্বাচনে এর এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। কারণ, যে মানুষগুলো আজ ঐক্যবদ্ধ শৈলকুপার জন্য বুক বেঁধে আছে, তাদের মন একবার ভেঙে গেলে সেই বিশ্বাস পুনরায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পুঁজি হলো সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা, আর একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সেই অমূল্য পুঁজিটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উন্নয়নের বিকল্প ও সঠিক পথ

শৈলকুপার মানুষের দাবি কখনোই এমন নয় যে তারা উন্নয়ন চান না। তারা অবশ্যই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ভালো রাস্তাঘাট, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং মানসম্মত শিক্ষা চান। কিন্তু তার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে গাড়াগঞ্জকে আলাদা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য উপজেলা ভাগ না করেও অনেক আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। যেমন, গাড়াগঞ্জকে একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। এতে করে গাড়াগঞ্জের নাগরিক সুবিধা বাড়বে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে, কিন্তু শৈলকুপার অখণ্ডতাও বজায় থাকবে। এছাড়া প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালু করা যায়, যেখান থেকে মানুষ ঘরে বসেই বা বাড়ির কাছে গিয়ে জন্মনিবন্ধন, জমির পর্চা বা অন্যান্য সরকারি সেবা পেতে পারে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়িয়ে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো সম্ভব। অর্থাৎ, মানুষকে বিভক্ত না করে বরং সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হতে পারে উন্নয়নের সবচেয়ে সঠিক ও টেকসই পথ।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়ন তখনই সার্থক ও অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটায় এবং তাদের জীবনকে সহজ করে। কিন্তু যে উন্নয়ন মানুষের মনে শঙ্কা তৈরি করে, সমাজকে বিভক্ত করে এবং শেকড়ের টান ছিন্ন করতে চায়, সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষ কখনো সাদরে গ্রহণ করে না। সরজমিন জরিপের ফলাফল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শৈলকুপার আপামর জনসাধারণ তাদের প্রাণের উপজেলাকে অখণ্ড ও ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায় এবং গাড়াগঞ্জকে আলাদা উপজেলা করার ঘোর বিরোধী।

মাননীয় আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এই এলাকার মানুষের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং আস্থার একটি নাম। তিনি খুব ভালো করেই জানেন তাঁর এলাকার মানুষের পালস বা নাড়ির স্পন্দন কী বলছে। শৈলকুপাকে দ্বিখণ্ডিত করে গাড়াগঞ্জকে উপজেলা করার যেকোনো প্রচেষ্টা কেবল একটি ভৌগোলিক বিভাজনই ঘটাবে না, বরং এটি মানুষের সাথে তাদের প্রিয় নেতার এক অদৃশ্য ও বিশাল দূরত্বের দেয়াল তৈরি করবে। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে, তাদের অভিভাবক হিসেবে তিনি কখনোই এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে দেবেন না, যা তাঁর নিজের মানুষের মনে কষ্ট দেয়।

উন্নয়নের জন্য বিভাজন নয়, বরং অখণ্ড শৈলকুপাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আগামী দিনের লক্ষ্য। শৈলকুপা যেমন ঐতিহাসিকভাবে এক এবং অবিচ্ছেদ্য ছিল, আগামী দিনেও তা তেমনই থাকুক। আইন মন্ত্রীর সঠিক, সময়োপযোগী এবং জনবান্ধব একটি সিদ্ধান্তই পারে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া এই শঙ্কার মেঘ দূর করতে এবং তাঁর প্রতি মানুষের এই বিশাল আস্থার জায়গাকে চিরকাল অমলিন রাখতে।


সম্পর্কিত নিবন্ধ