সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদকের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে ইউএনও’র নিজ কার্যালয়ে এই প্রাণবন্ত সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং সরকারি সেবাগুলো কীভাবে আরও সহজ করা যায়, তা নিয়ে সভায় খোলামেলা আলোচনা হয়। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের এমন যৌথ আলোচনা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল এবং উপজেলার পরিচিত অনেক সংবাদকর্মী। জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল আহাদ, বর্তমান সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের জামালগঞ্জ সংবাদদাতা মো. শাহীন আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তাহের আহমেদ সভায় উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নেহার দেবনাথ, প্রচার সম্পাদক ছাদিকুর রহমান স্বাধীন খান, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভেজ মোশারফ, সিনিয়র সাংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ এবং খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ আরও অনেক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা নতুন ইউএনও’র সামনে তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিস বা অন্যান্য সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকারি অফিসগুলোতে দালালদের একটি বড় চক্র কাজ করছে। অনেক সময় একটি সাধারণ কাজের জন্য মানুষকে সরকারি ফির চেয়েও অনেক বেশি টাকা বা ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ১০০% বন্ধ করার জন্য সাংবাদিকরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে বলে তারা জোর দাবি জানান।
শুধু দাপ্তরিক সেবাই নয়, সাংবাদিকরা এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন। সুনামগঞ্জ একটি হাওরবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানকার কৃষকদের অনেক কষ্ট করে ফসল ফলাতে হয়। বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা তাদের ফসলের সঠিক দাম পান না। অনেক সময় কৃষকের প্রায় ২০% থেকে ৩০% ফসল শুধু জলাবদ্ধতা ও সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কৃষকদের এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য সাংবাদিকরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। এর পাশাপাশি এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়।
নতুন ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক সাংবাদিকদের প্রতিটি কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নোট নেন। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের তুলে ধরা প্রতিটি বিষয় আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন, একটি উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। এই কাজে সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ১০০% প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, আগামী দিনে সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রশাসনের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পথে কাজ করতে সাহায্য করবেন।
সাংবাদিকরাও নতুন ইউএনওকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বলেন, প্রশাসন যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তবে গণমাধ্যম সব সময় প্রশাসনের পাশে থাকবে। মতবিনিময় সভার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক। সভা শেষে জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সাংবাদিক ও প্রশাসনের এই চমৎকার সম্পর্ক আগামী দিনে জামালগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সবাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
















