নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এক চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার। তার সরাসরি প্রচেষ্টায় এবং উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ করা টাকা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার, ১৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আর্থিক উপহার বিতরণ করা হয়। বর্তমানের এই কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে নগদ টাকা হাতে পেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
সংসদ অধিবেশনে অত্যন্ত জরুরি কাজের ব্যস্ততা থাকায় এমপি মানসুরা আক্তার নিজে এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তার নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই এলাকার জন্য মোট ১০ লাখ টাকার একটি বিশেষ বরাদ্দ এসেছিল। এই মোট বরাদ্দের মধ্য থেকে পূর্বধলা উপজেলার ৩১৯ জন প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র উপকারভোগীর মাঝে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
বাকি ৪০ হাজার টাকার একটি সুন্দর হিসাবও আয়োজকরা দিয়েছেন। তারা জানান, অবশিষ্ট অর্থের মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কিছু গরিব মানুষের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং দুর্গাপুর উপজেলার জন্য ১০ হাজার টাকা আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে এই ১০ লাখ টাকার মূল্য প্রায় ৮,৫০০$ (ডলার) এর কাছাকাছি। হয়তো টাকার এই অঙ্কটি খুব বিশাল কিছু নয়, কিন্তু গ্রামের একজন দিনমজুর বা বিধবা নারীর কাছে এই নগদ ৩,০০০ টাকা অনেক বড় একটি সাহায্য। এই টাকা দিয়ে তারা অন্তত নিজেদের পরিবারের কয়েক সপ্তাহের খাবার বা জরুরি ওষুধ কিনতে পারবেন।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু। এছাড়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল হেলালি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মাহফুজুল হক মানার, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু এবং যুবদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্রাহাম লিংকন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতারাও এই মহতী উদ্যোগে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু বলেন, এমপি মানসুরা আক্তার সংসদ অধিবেশনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত আছেন। তাই তার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই আমরা দলীয় নেতৃবৃন্দ আজ এখানে এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে জানান, টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে ১০০% স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে প্রকৃত অসহায়, বিধবা ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে খুব নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করে এই নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জনস্বার্থে খুব শিগগিরই এই উপকারভোগীদের পুরো তালিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে না পারে।
ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু তার বক্তব্যে এমপি মানসুরা আক্তারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এমপি মানসুরা আক্তার পূর্বধলা উপজেলাকে সারা দেশের সামনে একটি ‘রোল মডেল’ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব সময় সজাগ রয়েছেন। তার এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনে এলাকার অন্যান্য বিত্তবান মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদেরও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্তত ৫০% বেশি উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ত্রাণের এই টাকা পেয়ে উপকারভোগী সাধারণ মানুষের চোখেমুখে যে আনন্দের আভা দেখা গেছে, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অনেক বয়স্ক নারী ও পুরুষ এই টাকা পেয়ে এমপি মানসুরা আক্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য মন খুলে দোয়া করেছেন। তারা জানান, বাজারে এখন সবকিছুর দাম অনেক চড়া, তাই এই নগদ টাকা তাদের অনেক বড় উপকারে আসবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরের নেতারা যদি এভাবে সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন, তবে খুব দ্রুতই আমাদের দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।















