পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি বিশাল ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার এক যুগান্তকারী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে শনিবার, ১৩ জুন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশজুড়ে বনভূমি বাড়ানোর এই সরকারি উদ্যোগটি সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই চমৎকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন এবং নেত্রকোনা জেলা বন সম্প্রসারণ কেন্দ্র ও নেত্রকোনা বন বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে। পরিবেশের অবক্ষয় রোধে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে এর মোট আয়তনের অন্তত ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশ কম। তাই এই ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রকল্পটি দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই মহতী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী দিনে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উপস্থিত মানুষের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের মোট ৫০০টি চারা তুলে দেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতেও চারা দেওয়া হয়। এছাড়া সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, কৃষক এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এই গাছের চারাগুলো গ্রহণ করেন। অনেকেই এই চারা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় বা রাস্তার পাশে লাগাবেন বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গাছ শুধু পরিবেশই বাঁচায় না, এটি অপরাধ কমাতেও পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। কারণ, একটি সবুজ ও সুন্দর পরিবেশ মানুষের মনকে শান্ত রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুন্দর আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বর এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর এই বিশাল স্বপ্নের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল এক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। এই কর্মসূচি সফলভাবে ও ১০০% স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাছ শুধু লাগিয়ে দিলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে বড় করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
ইউএনও আরও জানান, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রথম ধাপ হিসেবে আজ পূর্বধলায় ৫০০টি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হলো। খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত ৫০০টি চারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। পরিবেশের সুরক্ষার পাশাপাশি এসব ফলজ ও বনজ গাছ সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবেও কাজ করবে। একটি ভালো মানের কাঠের গাছ কয়েক বছর পর বিক্রি করলে অনায়াসেই ১০০থেকে২০০ (ডলার) সমমূল্যের দেশীয় টাকা পাওয়া যায়, যা গ্রামের গরিব মানুষের অনেক উপকারে আসে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশে এখন অতিবৃষ্টি, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেড়ে গেছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং দেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তবে তারা জোর দাবি জানান, সরকারি চারাগুলো যেন সঠিক জায়গায় লাগানো হয় এবং কোনোভাবেই যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে হবে।















