ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই জন্ম দেয় নতুন নতুন রেকর্ডের। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাওয়া ফুটবলের এই বিশাল মহাযজ্ঞও তার ব্যতিক্রম হবে না। এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে তরুণ লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারা মাঠে নামলেই গড়তে পারেন দারুণ সব কীর্তি। শুধু খেলোয়াড়রাই নন, কোচদের সামনেও রয়েছে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ। আসুন দেখে নিই, আগামী বিশ্বকাপে ঠিক কোন কোন রোমাঞ্চকর রেকর্ডগুলো ভাঙার অপেক্ষায় আছে।
কোচদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়ানোর রেকর্ডটি বর্তমানে জার্মান ‘কিং’ ওটো রেহাগেলের দখলে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে গ্রিসের কোচ হিসেবে ৭১ বছর বয়সে তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই পুরোনো রেকর্ডটি ভেঙে দিতে পারেন ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। ৭৮ বছর বয়সী এই কোচের হাত ধরেই জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোসের বয়সও ২০২৬ বিশ্বকাপে ৭৪ বছর পেরিয়ে যাবে, তাই বয়সের এই লড়াইয়ে তিনিও বেশ আলোচনায় থাকবেন।
খেলোয়াড়দের রেকর্ডের দিকে তাকালে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডটি। বর্তমানে এই রেকর্ডটি পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপের দখলে। ২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৯ বছর ২৮৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই রেকর্ডটি নিজের করে নেন। তবে এবার তার এই রেকর্ড হুমকির মুখে। কারণ, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৪০ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার স্ট্রাইকার এডিন জেকো এবার নকআউট পর্বে গোল পেলেই পেপেকে টপকে যাবেন।
বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি বর্তমানে জার্মানির সাবেক তারকা স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার। তিনি ২৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ১৭টিতে জয় পেয়েছেন। তবে এই রেকর্ডটি এবার খুব সহজেই নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মেসি ইতিমধ্যে ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৬টিতে জয় পেয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া বা জর্ডানের বিপক্ষে অন্তত দুটি জয় পেলেই তিনি ক্লোসাকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
সবচেয়ে বেশি গোলদাতার রেকর্ড নিয়েও এবার তুমুল লড়াই হবে। মিরোস্লাভ ক্লোসা ১৬টি গোল নিয়ে বর্তমানে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে আর্জেন্টিনার মেসি ১৩টি গোল নিয়ে তার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। আর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১২টি। হ্যারি কেইন, নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোল আছে ৮টি করে। মেসি বা এমবাপ্পে যদি এবার নিজেদের সেরা ফর্মে থাকেন, তবে ক্লোসার এই ১৬ গোলের রেকর্ডটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল বা সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার রেকর্ডটি এখনো ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর দখলে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এবার স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং ফ্রান্সের ২০ বছর বয়সী দেজিরে দুয়ের সামনে সুযোগ রয়েছে রোনালদোর এই রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস লেখার।
সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি বর্তমানে ব্রাজিলের ‘এক্সপ্রেস ট্রেন’খ্যাত কাফুর দখলে। তিনি ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের ফাইনালে খেলেছিলেন। লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে দুজনেই এর আগে দুটি করে ফাইনাল খেলেছেন। তারা যদি এবার নিজেদের দলকে ফাইনালে তুলতে পারেন, তবে কাফুর রেকর্ডে ভাগ বসানোর দারুণ সুযোগ পাবেন।
এছাড়া একাধিক টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডটি শুধু গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার দখলে রয়েছে। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন বা রোনালদো যদি এবার হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে তারাও বাতিস্তুতার পাশে নিজেদের নাম লেখাতে পারবেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপটি শুধু মাঠের লড়াইয়ের জন্যই নয়, বরং এই রেকর্ড ভাঙাগড়ার অঙ্কের জন্যও ফুটবল ভক্তদের কাছে দারুণ রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে।
















