ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক বিশাল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় নেতারা এই সভার আয়োজন করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠে ছাত্রদল এখন নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া। তাই দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে মহেশপুর উপজেলা, পৌরসভা এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি এই মতবিনিময় করেছেন।
এই প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি। তিনি তরুণ ছাত্রদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। তারা দুজনেই অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, দেশের যেকোনো বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংকটে ছাত্ররাই সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই আগামী দিনের কঠিন রাজপথের লড়াইয়ে এই তরুণদেরই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।
ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই বিশাল সভায় অংশ নেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। জেলা নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের প্রায় ৬০% মানুষ তরুণ। এই বিশাল তরুণ সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিই ১০০% সফল হবে না। তারা মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায় গিয়ে নতুন কর্মী সংগ্রহ করার কড়া নির্দেশ দেন। দলের চেইন অব কমান্ড বা নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান এই শীর্ষ ছাত্রনেতারা।
মহেশপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুল হাসান রতন এবং সদস্যসচিব আব্দুল মালেক এই মতবিনিময় সভাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সভায় উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। স্থানীয় নেতারা নিজেদের বক্তব্যে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলের রাজনীতি করতে গিয়ে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা কখনোই নিজেদের আদর্শ থেকে একচুলও পিছপা হননি। এখন সময় এসেছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার এবং রাজপথ নিজেদের দখলে নেওয়ার।
সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েও অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেন। তারা বলেন, দেশে এখন শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় ২৫% থেকে ৩০% ছাড়িয়ে গেছে। যুবসমাজ অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করেও কোনো চাকরি পাচ্ছে না। বিগত সময়ে দেশ থেকে হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার ()বিদেশেপাচারহয়েগেছে,যারকারণেদেশেরঅর্থনীতিআজখাদেরকিনারেএসেদাঁড়িয়েছে।বর্তমানেএকটিসাধারণপরিবারেরছাত্রেরমাসিকপড়াশোনাওথাকা−খাওয়ারখরচপ্রায়১০০)বিদেশেপাচারহয়েগেছে,যারকারণেদেশেরঅর্থনীতিআজখাদেরকিনারেএসেদাঁড়িয়েছে।বর্তমানেএকটিসাধারণপরিবারেরছাত্রেরমাসিকপড়াশোনাওথাকা−খাওয়ারখরচপ্রায়১০০
থেকে ১৫০$ (ডলার) বা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই লাগামহীন খরচের কারণে অনেক গরিব মেধাবী ছাত্রের পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তরুণ ছাত্রনেতারা যদি এখন থেকে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান, তবে আগামী দিনে দেশের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে।
ছাত্রদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নেতারা। তারা স্পষ্টভাবে বলেন, কলেজগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখার সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ১০০% নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা দখলদারিত্ব চলতে দেওয়া হবে না। সাধারণ ছাত্রদের যেকোনো বিপদে-আপদে ছাত্রদলকে সবার আগে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়াতে হবে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তা সফলভাবে পালন করতে এখন থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন নেতারা। তারা বিশ্বাস করেন, তৃণমূলের কর্মীরা যদি মাঠে শক্তভাবে দাঁড়ায়, তবে কোনো অপশক্তিই তাদের দমাতে পারবে না।
দিনব্যাপী চলা এই মতবিনিময় সভাটি স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে। নেতাদের দিকনির্দেশনা পেয়ে সাধারণ কর্মীরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার শপথ নিয়েছেন। সভার একেবারে শেষ পর্যায়ে জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতারা মহেশপুর উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন। তারা একে অপরের খোঁজখবর নেন এবং আগামী দিনের যেকোনো লড়াইয়ে একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভার সফল সমাপ্তি টানেন।
















