ঝিনাইদহের মহেশপুরে ড্রেন সংস্কারে ধীরগতি: কাদা ও যানজটে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কলেজ স্ট্যান্ড এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিজেদের নানা প্রয়োজনে এই ব্যস্ত পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতা দূর করতে সম্প্রতি এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। মানুষের মনে প্রথমে কিছুটা স্বস্তি এলেও এখন তা পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। কারণ, ড্রেন মেরামতের এই কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। যার ফলে এই উন্নয়ন প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় ধরনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় পুরো এলাকায় এখন চরম ভোগান্তি আর বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে ঠিকাদাররা ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু করেন। তারা রাস্তার প্রায় ৮০% হাঁটার পথ এবং ড্রেনের ওপরের পুরোনো স্লাব ভেঙে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। কিন্তু এই ভাঙচুরের পর কাজের আর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রাস্তার দুই পাশে মাটি, ইট আর সুরকির স্তূপ দিনের পর দিন ফেলে রাখা হয়েছে। এর ফলে চলাচলের মূল পথটি একেবারে সরু হয়ে গেছে। ড্রেনের ভেতরের পচা কাদা ও ময়লা রাস্তায় তুলে রাখায় বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নাক চেপে বাধ্য হয়ে ওই এলাকা পার হচ্ছেন।

এই ধীরগতির কাজের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন কলেজ স্ট্যান্ড এলাকার শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। রাস্তা ভাঙা এবং চারদিকে কাদাপানির কারণে ক্রেতারা এখন আর এই এলাকার দোকানগুলোতে আসতে চাইছেন না। মুদি দোকান থেকে শুরু করে ফার্মেসি, সব জায়গাতেই ক্রেতার আকাল। একাধিক ব্যবসায়ী হতাশা প্রকাশ করে জানান, গত এক মাসে তাদের দোকানের বিক্রি প্রায় ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত কমে গেছে। হিসাব করলে দেখা যায়, এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ ডলার ($) বা আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মতো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কাজ দ্রুত শেষ না হলে তাদের অনেকের পক্ষেই ব্যাংক বা এনজিওর ঋণের কিস্তি টানা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, খোঁড়াখুঁড়ির এই কারণে প্রতিদিন যানবাহন চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ স্ট্যান্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখান দিয়ে প্রতিদিন রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। বর্তমানে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই সেখানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা মূল্যবান সময় রাস্তায় বসেই নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষরা সঠিক সময়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলোও অনেক সময় এই জ্যামে আটকা পড়ে চরম বিপদে পড়ছে।

আবহাওয়া খারাপ হলে বা সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের নোংরা কাদা মিলে পুরো এলাকা একাকার হয়ে যায়। তখন পথচারীদের চলাচল প্রায় ১০০% অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় কাদায় পা পিছলে পড়ে বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছেন। এছাড়া খোলা ড্রেনে জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে ওই এলাকায় মশার উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে, স্থানীয়রা ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে দিন পার করছেন।

একটি সাধারণ ড্রেন সংস্কারের কাজ শেষ করতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের একটাই দাবি, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং ঠিকাদারদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করে। তারা চান, কাজের মান ১০০% ঠিক রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়। উন্নয়ন সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই করা হয়, দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়। তাই দ্রুত এই অসহনীয় দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহেশপুরবাসী।

সম্পর্কিত নিবন্ধ