মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের লাল গালিচা: তারকাদের নজরকাড়া ব্লাউজের সাজে মুগ্ধ সবাই

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে বসেছিল বিনোদনজগতের সবচেয়ে বড় উৎসব মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৭তম আসর। দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিনয়শিল্পী, গায়ক, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা এই ঝলমলে সন্ধ্যায় এক ছাদের নিচে জড়ো হন। তবে এবারের লাল গালিচায় শুধু কে কোন পুরস্কার পেলেন, তা নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং সবার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নারী তারকাদের দারুণ সব ফ্যাশন, বিশেষ করে শাড়ির সঙ্গে পরার জন্য বাছাই করা বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় ব্লাউজের নকশা।

আমাদের দেশের যেকোনো বড় উৎসবে শাড়ির আবেদন সব সময়ই আলাদা। এবারের পুরস্কার প্রদান আসরেও প্রায় ৭০% নারী তারকা পশ্চিমা গাউন বা লেহেঙ্গা ছেড়ে নিজেদের দেশীয় শাড়ি বেছে নেন। আর এই শাড়ির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের ব্লাউজের দারুণ সব কাটিং ও ডিজাইন। সাধারণ একটি শাড়িকেও যে শুধু চমৎকার একটি ব্লাউজ দিয়ে রাজকীয় রূপ দেওয়া যায়, তার প্রমাণ দিয়েছেন এই রাতের তারকারা। ডিজাইনাররা এবার পুরোনো দিনের স্টাইলের সঙ্গে আধুনিক কাটিংয়ের এক চমৎকার মিশেল ঘটিয়েছেন।

লাল গালিচায় হাঁটতে আসা তারকাদের পরনে ছিল হরেক রকমের ব্লাউজ। কেউ পরেছেন স্লিভলেস বা হাতাকাটা ব্লাউজ, কেউবা বেছে নিয়েছেন পিঠখোলা বা ব্যাকলেস ডিজাইনের সাহসী রূপ। অনেকের পরনে দেখা গেছে সত্তর বা আশির দশকের সেই পুরোনো দিনের পাফ স্লিভ বা ঘটি হাতার ব্লাউজ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভারী হাতের কাজ, পুঁতি, চুমকি ও জরির নিখুঁত সেলাই। শুধু তা-ই নয়, অনেকে শাড়ির রঙের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত বা কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ পরে দারুণ লুক তৈরি করেছেন। মখমল বা ভেলভেট কাপড়ের ওপর রুপালি সুতোর কাজ করা ব্লাউজগুলো ক্যামেরার ফ্ল্যাশে রীতিমতো ঝলমল করছিল। গলার ডিজাইনেও ছিল নতুনত্ব; বোট নেক, হল্টার নেক এবং অফ-শোল্ডার ব্লাউজগুলো তরুণ তারকাদের বেশ মানিয়েছিল।

তারকাদের এই এক রাতের সাজের পেছনে কাজ করে দেশের এক বিশাল ফ্যাশন অর্থনীতি। নামিদামি ফ্যাশন হাউস, মেকআপ আর্টিস্ট ও ডিজাইনাররা মাসের পর মাস এসব আকর্ষণীয় পোশাক তৈরির পেছনে সময় দেন। এবারের আসরে তারকারা যে পোশাক পরেছেন, তার প্রায় ৮০% কাপড়ই ছিল দেশীয় তাঁত, জামদানি ও মসলিনের তৈরি। ফলে এই উৎসবের মাধ্যমে দেশীয় তাঁতিরাও আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

পোশাকের ক্ষেত্রে তারকারা এবার শুধু সৌন্দর্যের দিকেই নজর দেননি, তারা পোশাকের আরামের বিষয়টিতেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে অনেকেই সুতি বা লিনেন কাপড়ের ওপর আধুনিক কাটছাঁটের ব্লাউজ পরেন। পশ্চিমা প্যাটার্নের সঙ্গে দেশীয় মোটিফের চমৎকার এক ফিউশন বা সংমিশ্রণ দেখা গেছে এবার। ব্লাউজের পেছনের অংশে বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা, ফিতা ও বোতামের সৃজনশীল ব্যবহার সাধারণ দর্শকদেরও বেশ মুগ্ধ করেছে। ব্লাউজের এমন নজরকাড়া ডিজাইনের কারণে অনেককে গলায় কোনো ভারী গয়না পরতে হয়নি। শুধু কানে মানানসই দুল আর জমকালো ব্লাউজেই তারা সবার মনোযোগ নিজেদের দিকে টেনেছেন।

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ছবিগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তরুণ প্রজন্মের মেয়েরা প্রিয় তারকাদের ব্লাউজের নকশা দেখে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দর্জিবাড়ি বা টেইলরের দোকানগুলোতে এরই মধ্যে এসব নতুন ডিজাইনের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি নামিয়ে দর্জিকে ঠিক এমন একটি ব্লাউজ বানিয়ে দিতে বলছেন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, তারকাদের এই সাজ দেশের স্থানীয় বুটিক ও দর্জি ব্যবসার আয় সামনের মাসগুলোতে অন্তত ২০% বাড়িয়ে দেবে। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের এই লাল গালিচা প্রমাণ করল, দেশীয় পোশাক দিয়েও আন্তর্জাতিক মানের গ্ল্যামার তৈরি করা সম্ভব।

জয়া আহসান

সম্পর্কিত নিবন্ধ