হাতিয়ায় যৌথ বাহিনীর বড় সাফল্য: আগ্নেয়াস্ত্রসহ সন্ত্রাসী মহিবুল্লাহ গ্রেপ্তার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অপরাধ দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল সকালে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তারা এলাকার এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। আটকের সময় তার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

কোস্ট গার্ড এবং পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সাড়াঁশি অভিযানটি পরিচালনা করে। তারা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পায় যে, উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মধ্য মাইজছরা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী নাশকতার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। খবর পাওয়ার পরপরই তারা খুব দ্রুত ওই এলাকা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

যৌথ বাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে মহিবুল্লাহ নামের ওই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ধরা পড়ে। এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে সে ‘মফুইল্ল্যা চোরা’ নামেই বেশি পরিচিত। আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা সরাসরি তার বাড়িতে তল্লাশি চালান।

তল্লাশি চালিয়ে মহিবুল্লাহর বাড়ি থেকে তারা মোট ৬টি অস্ত্র উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ২টি হলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বাকি ৪টি বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, চোরাকারবারিদের মাধ্যমে আসা এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের একেকটির দাম কালোবাজারে অনেক সময় ১০০ থেকে ৩০০ ডলার (

        ১০০−১০০-১০০−
      

৩০০) পর্যন্ত হয়ে থাকে। চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতে এবং নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে সন্ত্রাসীরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করত।

হাতিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটক মহিবুল্লাহ একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয় থানায় তার নামে অস্ত্র আইনে আগে থেকেই কয়েকটি মামলা ঝুলছে। সে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অপরাধ করে আসছিল।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকায় শান্তি ফেরাতে বেশ কিছুদিন ধরে যৌথ বাহিনী টানা অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, এমন জোরালো অভিযানের ফলে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গত কয়েক মাসে অন্তত ৪০% থেকে ৫০% কমে গেছে। মহিবুল্লাহর মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসী ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে এখন বেশ স্বস্তি ফিরেছে। পুলিশ তাকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে খুব দ্রুত আদালতে হাজির করা হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ