রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪: শনাক্ত হলেন সবাই

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশের মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিচয় এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

নিহত দুই বাংলাদেশির একজন হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মদ এবং অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে তিনি কর্মস্থল জেদ্দায় ফিরছিলেন। অন্যদিকে নাসরুল্লাহ পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যান এবং ট্রানজিটে জেদ্দাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে বসে ছিলেন। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে এখন গভীর শোকের মাতম চলছে।

হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে যাওয়া পুণ্যার্থী। অর্থাৎ আহতদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫৪ ভাগ বা অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ওমরাহ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। আহতদের দ্রুত রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী মো. ওমর ফারুক। এছাড়া রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নওগাঁর সাফফাত রহমান বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন। এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলাম।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে ঢাকার মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে আছেন ডেমরার মো. আবদুল্লাহ। সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আছেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ এবং আলসাহাফা শাখায় আছেন উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবাসী মো. রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে আছেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে সালমা আক্তারসহ ৫ জন, এস্টার সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল এবং সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নাজমা আক্তার।

হামলার কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের জরুরি খাদ্য ও আবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিশেষ সহায়তা ক্যাম্প স্থাপন করে। আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সুরক্ষায় দূতাবাস ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ মিলে প্রায় $১,৫০,০০০ (দেড় লাখ মার্কিন ডলার) সমমূল্যের লজিস্টিক তহবিলের ব্যবস্থা করে। ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা ১০০ জন যাত্রীকে মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে পাঠানো হয়।

আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দূতাবাস দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা নেয়। ওমরাহ পালনের জন্য ইহরামের পোশাক পরা অবস্থায় থাকা ৬৭ জন যাত্রীকে বিশেষ বাসে করে সড়কপথে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী বাতিল হওয়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে সেখান থেকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশিকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা দেয় দূতাবাস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের সুচিকিৎসা ১০০% নিশ্চিত করতে দূতাবাস সার্বক্ষণিক সৌদি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করছে। একই সাথে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

সম্পর্কিত নিবন্ধ