শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে মাদক প্রমাণ: আদালত ৫ জনকে পাঠাল কারাগারে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া পাঁচ ব্যক্তির শরীরে ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটকের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাদের ডোপ টেস্ট করানো হলে প্রত্যেকের শরীরেই মাদকের উপস্থিতি ১০০% পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে। আদালত সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার শুনানি নিয়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজনকে এক বছর করে এবং একজনকে দশ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দুধসর ভূমিহীন পাড়ার মোঃ বাদল মন্ডলের ছেলে মোঃ আবু কালাম মন্ডল (৩৫), মোহাম্মদপুর গ্রামের মোঃ নুর ইসলামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), ভগবান নগর গ্রামের মোঃ আয়ুব আলীর ছেলে মোঃ মাজিদুল ইসলাম (৩২) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরাপপুর গাবতলার মৃত কাশেম মন্ডলের ছেলে মোঃ মোহন মন্ডল (৩৩)। আদালত এই চারজনের প্রত্যেককে ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। এছাড়া ভাটই গ্রামের মৃত তফসের আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলামকে (৫৩) ১০ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডসহ একই অঙ্কের ৫০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শৈলকুপা থানা পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত মাদক স্পট ও আড্ডাস্থলগুলোতে একযোগে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ হাতেনাতে সন্দেহভাজনদের ধরে ফেলে থানায় নিয়ে আসে। অতীতে কেবল মাদকদ্রব্য সরাসরি উদ্ধার হলেই পুলিশ মামলা করতে পারত। তবে এখন আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ডোপ টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় কে মাদক গ্রহণ করেছে। চিকিৎসকদের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মূত্র ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে মাদক থাকার প্রমাণ মেলে। এই অভিযানে আটক পাঁচজনের সবার ক্ষেত্রেই টেস্ট পজিটিভ আসায় পুলিশ বিলম্ব না করে আদালতে অভিযোগপত্র ও রিপোর্ট জমা দেয়। পুলিশের এমন আধুনিক পদক্ষেপের ফলে মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এখন আর কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পার পাচ্ছে না।

সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৭০% থেকে ৮০% শতাংশই তরুণ ও যুব সমাজের সদস্য। সীমান্ত পথ দিয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাত ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে হাজার হাজার $ (মার্কিন ডলার) মূল্যের অবৈধ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। নিষিদ্ধ এই মাদকের কারণে অসংখ্য পরিবার যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি তরুণরা নানা সহিংস ও অসামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শৈলকুপার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক সেবনকারীদের ডোপ টেস্ট করে দ্রুত শাস্তি দিলে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে।

আদালতে বিচারক সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পুলিশের অভিযোগ ও ডোপ টেস্টের পজিটিভ রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করলে আদালত কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক রায় দেন। সংক্ষিপ্ত বিচার ব্যবস্থার এই দ্রুত কার্যকারিতা বিচারালয়ে দীর্ঘদিনের মামলার জট যেমন কমায়, তেমনি অপরাধীদের মধ্যেও আইনের কঠোরতার বার্তা পৌঁছে দেয়। স্থানীয় সচেতন মহল আদালতের এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পাঁচজনকেই ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা শৈলকুপাকে সম্পূর্ণ মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি জনপদে পরিণত করতে রাতদিন কাজ করছি। মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারি—কারও প্রতিই আমাদের কোনো ছাড় বা সহানুভূতি নেই। মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সবসময় সন্তানদের সঙ্গ ও চলাফেরার ওপর কড়া নজর রাখা উচিত। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এলাকায় জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে শৈলকুপা থানা পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান সামনে আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ