আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান দুটি ধর্মীয় আয়োজনে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টগুলোর চাহিদার চেয়েও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়ানোর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। সরকারের এমন পদক্ষেপে উৎসবের আমেজ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সব মহলে স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট সরকারের কাছে ৪ কোটি টাকার অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা ২৫% বাড়িয়ে মোট ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। অর্থাৎ তারা চাহিদার চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি পেল। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আসন্ন কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চেয়েছিল ২ কোটি টাকা। সেখানে ৫০% বৃদ্ধি করে এক লাফে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয় বৌদ্ধদের অন্যতম বড় উৎসব মধু পূর্ণিমা। এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্যই এই বাড়তি সহায়তা দিল সরকার।
শুধু আর্থিক অনুদানই নয়, এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর সাধারণ ছুটি। এরপরের দিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিনও নির্বাহী আদেশে বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করেছেন। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে টানা ৫ দিনে। টানা ছুটির কারণে উৎসব উদযাপনে মানুষ পরিবার-পরিজনের কাছে সহজে যেতে পারবেন।
টানা ৫ দিনের এই লম্বা ছুটিতে দেশের সরকারি সব অফিস ও আদালত বন্ধ থাকবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যাংক ও আর্থিক খাতেও। সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস এবং অনলাইন ব্যাংকিং চালু রাখার নির্দেশ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ডলার ()লেনদেনওজরুরিচালানখালাসেকিছুনির্দিষ্টবন্দরএলাকারব্যাংকশাখাখোলাথাকতেপারে।উৎসবেরমৌসুমেপ্রবাসীদেরপাঠানোরেমিট্যান্সেরডলার()লেনদেনওজরুরিচালানখালাসেকিছুনির্দিষ্টবন্দরএলাকারব্যাংকশাখাখোলাথাকতেপারে।উৎসবেরমৌসুমেপ্রবাসীদেরপাঠানোরেমিট্যান্সেরডলার() সহজে উত্তোলনের সুবিধাও নিশ্চিত করবে ব্যাংকগুলো।
তবে লম্বা ছুটির মধ্যেও জনস্বার্থে কিছু জরুরি সেবা পুরোপুরি চালু থাকবে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা মিলবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকবে। গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে সাধারণ মানুষের জরুরি সেবা পেতে কোনো ভোগান্তি হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি জানান, সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত অনুদান দেওয়া সরকারের উদার দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ। ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়িয়েছেন মাত্র এক দিন, কিন্তু ক্যালেন্ডারের সাপ্তাহিক ছুটির সুবাদে মানুষ কার্যত টানা ৫ দিনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এতে উৎসবের আমেজ বহুগুণ বাড়বে এবং প্রতিটি পরিবার স্বস্তির সঙ্গে শারদীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবে।
অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎসবে অনুদান বাড়ানো এবং টানা ছুটির ব্যবস্থা করায় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। রাজধানী ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরলে কেনাকাটায় গতি পায় এবং গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে টাকার প্রবাহ বাড়ে। বিশেষ করে জামাকাপড়, মিষ্টি ও পূজাসামগ্রীর দোকানগুলোতে বিক্রি প্রায় ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সাথে সরকার ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সব সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, তা জাতীয় ঐক্যে বড় ভূমিকা রাখবে।
















