রাজধানীতে নিজের শুটিং স্টুডিওতে সন্ত্রাসী হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। রবিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও মেরামত করার জন্য সরকারের কাছে তাঁর কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা সাহায্যের দরকার নেই। তিনি নিজের চেষ্টায় পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁর একমাত্র দাবি, সরকার যেন দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জানমালের শতভাগ (১০০%) নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশ চরম সংকটে পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন সালমান মুক্তাদির। তিনি জানান, শনিবার রাতে স্টুডিওতে হামলা হওয়ার পরপরই তিনি বহু মানুষ সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করতে যান। সেখানে টানা রাতভর অপেক্ষা করে ভোর ৪টা পর্যন্ত বসে থাকলেও পুলিশ তাঁর মামলা রেকর্ড করেনি। অথচ রবিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে সালমান মুক্তাদির কোনো মামলাই দায়ের করেননি। তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন, রবিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সালমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মাত্র ফোনেই দেশের যেকোনো থানার খবর চলে আসার কথা। অথচ সকাল সাড়ে ৮টায় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য দুপুর পর্যন্ত কেন তাঁর কাছে পৌঁছাল না, তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন অসত্য তথ্য পুরো পুলিশ বিভাগ ও বর্তমান সরকারকে জনগণের সামনে ছোট করেছে। প্রশাসন ও নাগরিকদের প্রকৃত অবস্থা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলেই এমন তথ্যবিভ্রান্তি ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্টুডিওতে হামলার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে সালমান জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে প্রায় ৭০% থেকে ৮০% দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও শুটিং সেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে প্রায় $২৫,০০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের ক্যামেরা ও ডিজিটাল রেকর্ডিং সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। হামলাকারীরা স্টুডিওতে সরাসরি গুলি পর্যন্ত চালিয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা অস্ত্রসহ ৩ জন হামলাকারীকে হাতেনাতে আটক করে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলির খোসা, চাপাতি ও কোদাল জব্দ করা হয়। মারধরের শিকার হয়ে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে সেখানে গিয়েছিল।
হামলাকারীদের মুখে বিএনপির নাম উঠে আসার কথা বলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও ও বিতর্কিত’ বলে উড়িয়ে দেন। এই বক্তব্যের জবাবে সালমান মুক্তাদির সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি দেশের নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন, নাকি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের জনসংযোগ বা ইমেজ রক্ষার কাজ করছেন? তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সংবাদ সম্মেলনে মুচকি হেসে দায় এড়িয়ে গেলে অপরাধীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
সালমান আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দীর্ঘ তদন্তের ফাঁকা আশ্বাস শুনতে চায় না, তারা চায় তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান অ্যাকশন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সুনির্দিষ্ট ভিডিও প্রমাণ ও আটক সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পরও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ঘটনার গুরুত্ব হালকা করার চেষ্টা চলছে। একজন পরিচিত মানুষের ওপর দিনের আলোয় প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে যদি দায়ীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়, তবে প্রান্তিক এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তাই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
সবশেষে সালমান মুক্তাদির রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি কারো কাছে হাত পাততে বা ভিক্ষা চাইতে আসেননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সালমান মুক্তাদির যথেষ্ট শক্তিশালী, আমি একাই আমার ক্ষতি সামলে নিতে পারব।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁকে নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক না বাড়িয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের বাঁচার অধিকার ও মৌলিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নিজের ক্ষতি মেনে নিলেও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ভূলুণ্ঠিত হলে দেশের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
















