চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়ক অবরোধ করে ইজিবাইক চালকদের বিক্ষোভ, তীব্র যানজট

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ইজিবাইক আটকে দেওয়া এবং চালকদের হয়রানির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েকশ ইজিবাইক চালক। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা এই অবরোধ কর্মসূচি চলে। দামুড়হুদার ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক চলাচলে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেড তুলে নেওয়া এবং কোনো বাধা ছাড়া গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবিতে চালকেরা রাস্তায় নামেন। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, রবিবার সকালে উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শতাধিক ইজিবাইক জড়ো করেন চালকেরা। এরপর সেখান থেকে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে গিয়ে বসে পড়েন। চালকেরা সড়কের ওপর এলোপাতাড়ি গাড়ি রেখে অবস্থান নেন। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট লেগে যায়। আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালকেরা অভিযোগ করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আঁতাত করে পুলিশ ফকিরপাড়া এলাকায় চুয়াডাঙ্গাগামী ইজিবাইক আটকে দিচ্ছে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই গাড়ি থানায় নিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই গাড়ি ছাড়াতে চালকদের কাছ থেকে ২,৬৫০ টাকা থেকে ২,৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে চালকদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনাও ঘটছে। চালকদের মতে, প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা রোজগারের জন্য তারা রাস্তায় নামেন। সেখান থেকে এমন জরিমানা দিলে তাদের আর সংসার চলে না।

আন্দোলনরত এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা গাড়ি কিনেছেন। অনেকে দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে ভাত তুলে দেন। একে তো জ্বালানি ও ব্যাটারির দাম আগের চেয়ে প্রায় ২৫% থেকে ৩০% বেড়েছে, তার ওপর রাস্তায় নামলেই পুলিশের নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। বর্তমান বাজারে যেখানে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে প্রায় $২৫ ডলার সমমূল্যের এই জরিমানা তাদের একেবারে পথে বসিয়ে দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ফকিরপাড়ার বিতর্কিত ব্যারিকেড অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, রাস্তায় নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর অধিকার সবার রয়েছে। পাশাপাশি তারা আরও দাবি করেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার লাইসেন্সধারী ইজিবাইকগুলো যেন কোনোভাবেই পৌর এলাকার বাইরে চলতে না পারে। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী লেগুনা বন্ধ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৮০% দুর্ঘটনার জন্য মহাসড়কের এসব দ্রুতগতির অনিবন্ধিত লেগুনা দায়ী হলেও পুলিশ শুধু ইজিবাইক চালকদেরই টার্গেট করে।

অবরোধের খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস কুমার বসু, এসআই উত্তম এবং এসআই প্রদীপ চালকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ জানান এবং তাদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। তবে চালকেরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে স্লোগান দিতে থাকেন।

মহাসড়কে টানা তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাসের ভেতর আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যাওয়া রোগীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েন। প্রায় ৫০টির বেশি যাত্রীবাহী বাস ও অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

চালকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর যে অন্যায় জুলুম চলছে তা আর মেনে নেওয়া হবে না। ফকিরপাড়া এলাকায় গাড়ি আটকানো পুরোপুরি বন্ধ না হলে এবং প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। প্রয়োজনে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরো জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধের ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুরোপুরি শুরু করা যায়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ