শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে মাদক প্রমাণ: ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা দিল আদালত

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে আটক পাঁচ মাদকসেবীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন আদালত। চিকিৎসকের মাধ্যমে পরিচালিত ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি শতভাগ (১০০%) নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা করেন। বিজ্ঞ বিচারক শুনানিতে আসামিদের দোষ স্বীকার ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ অর্থদণ্ড দেন। শৈলকুপা থানা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাজা দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই রাতে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এই পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। তাদের মধ্যে দুই তরুণের দেহ তল্লাশি করে মোট ১০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩,৫০০ টাকা বা আনুমানিক $৩০ ডলারের কাছাকাছি। বাকি তিনজনকে বিভিন্ন স্থানে মাদক গ্রহণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ দল।

থানায় নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিতর্ক যাতে না থাকে, সেজন্য পুলিশ পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বেছে নেয়। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মাধ্যমে পাঁচজনেরই ডোপ টেস্ট করানো হয়। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, তাদের প্রত্যেকের রক্ত ও নমুনায় ক্ষতিকর মাদকের উপস্থিতি রয়েছে। চিকিৎসকেরা ডোপ টেস্টের পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার পরই পুলিশ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলাও দায়ের করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ আসামিদের দ্রুত ঝিনাইদহের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে। আদালতে বিজ্ঞ বিচারক সংক্ষিপ্ত বিচার বা ‘সামারি ট্রায়াল’ প্রক্রিয়ায় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। শুনানিকালে আসামিরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পাঁচজনকেই দোষী সাব্যস্ত করেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ জরিমানা দেওয়ার আদেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিদের অতিরিক্ত মেয়াদে কারাভোগ করতে হবে বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে শৈলকুপা হাজামপাড়ার মোঃ পিন্টু বিশ্বাসের ছেলে খায়রুল ইসলামকে (৩৫) ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। কুমিড়াদহ গ্রামের বাবু শেখের ছেলে মোঃ মিলন শেখকে (২৮) দেওয়া হয়েছে ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তার সাজা আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড। একই গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম শেখের ছেলে জুয়েল শেখকে (২৬) আদালত ৪ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করেন, যার অনাদায়ে সাজা ১৫ দিন।

অন্যদিকে দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া দুই তরুণের সাজা হয়েছে তুলনামূলকভাবে বেশি। এদের মধ্যে ৫ পিস ইয়াবাসহ আটক চাঁদপুর গ্রামের তেহের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল রানাকে (২৬) আদালত ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা করেছেন, জরিমানা না দিলে তাকে আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত সাজা খাটতে হবে। একইভাবে দুধসর গ্রামের নিকবার জোয়ার্দ্দারের ছেলে লিংকন জোয়ার্দ্দারকেও (২৫) ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত, অনাদায়ে তারও ১৫ দিনের কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এলাকায় মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রেখে কাজ করছে। তিনি বলেন, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রায় ৮০% থেকে ৯০% ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত তল্লাশির পাশাপাশি ডোপ টেস্ট পদ্ধতি ব্যাপক কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, পুরো শৈলকুপাকে শতভাগ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান ও আইনি প্রসিকিউশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ