মেত্রোপলিতানোয় রিয়ালকে হারিয়ে লা লিগার দুইয়ে উঠল আতলেতিকো

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে ধরতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হতো দুদলকে। এমন সমীকরণ সামনে রেখে নিজেদের মাঠ মেত্রোপলিতানোয় এল দেরবি মাদ্রিলেনোর ২৪৪তম লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। রোমাঞ্চে ঠাসা নগর ডার্বিতে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল দিয়েগো সিমিওনের দল। ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে এসেছে আতলেতিকো। লিগের ৭ ম্যাচ শেষে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে আতলেতিকোর পয়েন্ট এখন ১৬। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেল রিয়াল। অন্যদিকে ৭ ম্যাচের প্রতিটিতে জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।

প্রথমার্ধে দুই দলই মাঠে নেমেছিল নিখুঁত হিসেবি দাবার চালের মতো। প্রথম ৩০ মিনিট বল দখলের লড়াই হলেও ফরোয়ার্ডরা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। রিয়ালের পায়ে বলের দখল প্রায় ৫৮% থাকলেও তারা সুবিধা করতে পারেনি। ম্যাচের গতি বাড়ল হঠাৎ এক আক্রমণে। উইং থেকে লি-এর ক্রস ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ পর হানকোর জোরালো শট ব্লক করেন ইব্রাহিমা কোনাতে। পাল্টা আক্রমণে দূর থেকে তরুণ আরদা গুলেরের বাঁকানো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ইয়ান ওবলাক। তবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ডাগআউটে হলুদ কার্ড দেখেন আতলেতিকো কোচ সিমিওনে। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুড বেলিংহামের সংঘর্ষে লাল কার্ডের শঙ্কা তৈরি হলেও ভিএআরের সাহায্যে বেঁচে যান বেলিংহাম।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে বক্সে ক্ষিপ্র গতিতে ঢোকা জুলিয়ানো সিমিওনেকে পেছন থেকে ফেলে দেন রিয়ালের ডাচ ডিফেন্ডার ডিন হাউসেন। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে হাউসেনকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু মাঠের পাশে থাকা ভিএআর মনিটরে ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে হাউসেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এরপর পেনাল্টি থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন স্প্যানিশ লেফটব্যাক আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। কোর্তোয়া সঠিক দিক অনুমান করে ডাইভ দিলেও বলের নাগাল পাননি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মেত্রোপলিতানোকে আনন্দে ভাসায় স্বাগতিকরা।

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলা রিয়াল মাদ্রিদ তখনও ওই ধাক্কা সামলে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এর সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক আক্রমণ গড়ে বক্সে নিচু ক্রস পাঠান দুর্দান্ত খেলতে থাকা তরুণ জুলিয়ানো সিমিওনে। পোস্টের ঠিক সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা কানাডিয়ান স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিড কোনো ভুল করেননি। আলতো টোকায় তিনি বল ফাঁকা পোস্টে ঠেলে দিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন। গ্যালারিতে তখন শুরু হয় লাল-সাদা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উৎসব।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ডাগআউট থেকে পরিবর্তনের ডাক দেন রিয়াল কোচ মরিনিও। মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় দলের সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আরদা গুলেরকে। দলের রক্ষণ সামলাতে মাঠে নামানো হয় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারকে। শত মিলিয়ন $ মূল্যের তারকাবহুল স্কোয়াড নিয়েও ১০ জনের দল নিয়ে আতলেতিকোর ইস্পাতকঠিন রক্ষণ ভাঙা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল রিয়ালের জন্য। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক থেকে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বক্সে উড়ে আসা দুর্বল বলটি কোনো বাধা ছাড়াই লুফে নেন গোলরক্ষক ওবলাক। ফলে ম্যাচে ফেরার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে সফরকারীদের।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটকীয় রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে পাওয়া চমৎকার এক ফ্রি-কিক নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভা। হাওয়ায় ভাসানো সেই মাপা পাসে ডি-বক্সের ভেতর বুলেট গতির হেডে গোল করেন আন্তোনিও রুডিগার। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১। মেত্রোপলিতানোর গর্জন এক মুহূর্তের জন্য যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। এরপর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে সমতায় ফিরতে রিয়াল মরিয়া হয়ে সব শক্তি দিয়ে আক্রমণ শানায়। তবে নিজেদের রক্ষণ শতভাগ নিশ্ছিদ্র রেখে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় আতলেতিকো।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন আতলেতিকোর সমর্থক ও ফুটবলাররা। এই জয়ে লা লিগার শিরোপা লড়াই আরও জমজমাট হয়ে উঠল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসে বার্সেলোনার ওপর চাপ বজায় রাখল আতলেতিকো। অন্যদিকে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট হারিয়ে বড় এক ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ