মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ:
রাজনীতিতে প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যারা আদর্শের প্রশ্নে আজীবন আপসহীন থেকেছেন, তাদের মধ্যে মাস্টার আজিজুর রহমান ঝিনাইদহের মানুষের কাছে এক অতি পরিচিত মুখ। তিনি কেবল একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিক নন, বরং তৃণমূলের সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন এক অভিভাবক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু হামলা, মামলা ও কারাবরণকে হাসিমুখে গ্রহণ করে তিনি কোটচাঁদপুর অঞ্চলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় রেখেছেন। কোটচাঁদপুরের রাজনীতিতে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে। বৈরী পরিবেশেও তিনি কখনো নিজের নীতি থেকে এক চুলও সরেননি।
পারিবারিক পরিচয়ে মাস্টার আজিজুর রহমান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম বাবর আলী বিশ্বাস এলাকায় একজন সৎ ও পরহেজগার ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করায় এলাকাবাসীর কাছে তিনি ‘মাস্টার সাহেব’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শত শত শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা ও নৈতিকতার যে শিক্ষা তিনি দিতেন, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনেও তিনি তার শতভাগ (১০০%) বাস্তবায়ন করেছেন।
সংগঠনের প্রতি গভীর আনুগত্য ও নেতৃত্বের দক্ষতার কারণে ২০১৫ সালে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন। এরপর একটানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়টি ছিল দেশের বিরোধী রাজনীতি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর এক অধ্যায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞা এবং নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে অব্যাহত অভিযানের মুখেও তিনি উপজেলা পর্যায়ে দলকে অত্যন্ত সুসংগঠিত রাখেন।
পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে যখন দলের বহু নেতাকর্মী এলাকাছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিলেন, তখন মাস্টার আজিজুর রহমান এলাকা ত্যাগ না করে তৃণমূলের সাহস ধরে রাখেন। তিনি রাতের আঁধারে প্রত্যন্ত গ্রামের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন এবং তাদের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন। বিপদগ্রস্ত কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি নিয়মিত ভরসা দিয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কোনো কর্মীকে হতাশ হতে দেননি। দলের প্রতিটি সদস্যের সুরক্ষা ও ঐক্য ধরে রাখতে তিনি নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন।
রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা এক মামলায় পুলিশ তাঁকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে। এরপর টানা প্রায় ৫ মাস (১৫০ দিন) তিনি অন্ধকার কারাগারে বন্দি জীবন কাটান। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৬টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়। দফায় দফায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক আর আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁর জীবনের মূল্যবান সময়ের প্রায় ৪০% ব্যয় হয়েছে আদালত প্রাঙ্গণে। বারবার জামিনের জন্য আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ পড়েছিল। সেই দুঃসময়ে বিদেশের মাটিতে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরাও প্রায় ২ হাজার ডলার ($) সমপরিমাণ সহায়তা পাঠিয়ে তাঁর আইনি লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ান।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের দৃষ্টিতে মাস্টার আজিজুর রহমান একজন আমানতদার, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। গত ১৫ বছরে রাজনীতির সুযোগ নিয়ে অনেকে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। চরম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও কখনো তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তিনি দলমত নির্বিশেষে এলাকার যেকোনো মানুষের বিপদে ছুটে যেতেন। কুশনা গ্রামসহ পুরো উপজেলার সালিস-বিচার এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও সম্প্রীতি রক্ষায় তিনি ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিশোধ বা হানাহানির রাজনীতি কোনো জাতির কল্যাণ বয়ে আনে না; ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই শান্তির একমাত্র পথ। এলাকার সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে নীতিবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। ত্যাগ ও সততার প্রতীক হয়ে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অনুকরণীয় স্থান দখল করে আছেন।
















