হরিণাকুণ্ডুতে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৯৭ কৃতি শিক্ষার্থীকে জমকালো সংবর্ধনা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের এক অনন্য আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হরিণাকুণ্ডু সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ (5.00) অর্জনকারী মোট ৯৭ জন শিক্ষার্থীর চোখেমুখে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ আর ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন। পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছিল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন হরিণাকুণ্ডু পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মোঃ পলাশ আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহা. আব্দুল বারী ও উপজেলা মৎস্য অফিসার ইমরান হোসেন। এছাড়া হরিণাকুণ্ডু সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, শিশুকলি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নিয়ামত আলী এবং আন্দুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাসুদুল হক (টিটু) অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য তোমাদের কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পড়াশোনার ফল। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই চলবে না, সমাজে একজন সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্জিত মেধা ও যোগ্যতাকে দেশ এবং দশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি তরুণদের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে বই পড়ার অভ্যাস গড়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতার পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। এখানে নিজেদের শক্ত অবস্থানে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রায় ১০০% নিষ্ঠা ও নিয়মিত অধ্যবসায় প্রয়োজন। মাধ্যমিকের শক্ত ভিত তৈরি করতে পারলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সুযোগ মেলে। বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর হাজার হাজার $ ডলার মূল্যের স্কলারশিপ পাওয়ার পথ সুগম হয়। তাই মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর না করে বাস্তবমুখী শিক্ষায় নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে তাগিদ দেন অতিথিরা।

আলোচনা পর্ব শেষে সংবর্ধিত কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ উপহার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। মোট ৯৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে আকর্ষণীয় সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট, একটি জ্ঞানমূলক বই এবং একটি করে ফলদ বেল গাছের চারা। একই সাথে সবার মাঝে দুপুরের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। উপহার হিসেবে গাছের চারা পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভীষণ আনন্দ প্রকাশ করে। তারা অঙ্গীকার করে, এই গাছটি নিজ বাড়ির আঙিনায় রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের এই সবুজ উদ্যোগ সবাইকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মাননা তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষায় আরও ভালো ফল করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও এমন আয়োজনে আন্তরিক সন্তোষ প্রকাশ করেন। এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের এমন সাফল্যে আমরা গর্বিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এভাবে ডেকে সংবর্ধনা দেওয়া আমাদের পরিবারগুলোর জন্য এক পরম পাওয়া। উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রায় ৯০% প্রতিনিধি মনে করেন, এমন ইতিবাচক আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে ও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা রিপন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য মোঃ রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আনন্দ আর হাসিমুখে শেষ হয় পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা জানান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে নতুন এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এটি আগামী শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মাঝেও ভালো ফলাফল অর্জনে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ