ঝিনাইদহে কাবাডি ও হ্যান্ডবলে জোড়া শিরোপা জিতল কাতলাগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়, লক্ষ্য বিভাগীয় পর্যায়

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলা পর্যায়ে আন্তবিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অনন্য কীর্তি গড়েছে শৈলকুপার কাতলাগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়। কাবাডি এবং হ্যান্ডবল উভয় খেলাতেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তারা জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। কাবাডির ফাইনালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফজর আলী গার্লস স্কুলকে বড় ব্যবধানে হারায় কাতলাগাড়ী। অন্যদিকে হ্যান্ডবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে শিশুকুঞ্জ স্কুলকে পরাজিত করে তারা ট্রফি নিশ্চিত করে। জোড়া শিরোপা জেতার মাধ্যমে দলটি আগামী ১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় ঝিনাইদহ জেলার প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করল।

কাবাডি কোর্টে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কাতলাগাড়ীর মেয়েরা। ফাইনালে তারা সদর উপজেলার ফজর আলী গার্লস স্কুল টিমকে ৪৭-১৩ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাতলাগাড়ীর খেলোয়াড়দের ক্ষিপ্র রেইড ও নিরেট ডিফেন্সের সামনে ফজর আলী গার্লস স্কুলের খেলোয়াড়েরা দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথমার্ধেই কাতলাগাড়ী প্রায় ৭০% পয়েন্ট নিজেদের পকেটে পুরে ফেলে চালকের আসনে বসে। তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং দুর্দান্ত শারীরিক ফিটনেসের কাছে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার মেনে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ফজর আলীর মেয়েদের।

কাবাডির পর হ্যান্ডবল মাঠেও জয়রথ ধরে রাখে কাতলাগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী শিশুকুঞ্জ স্কুল। তবে কাতলাগাড়ীর আক্রমণভাগের গতি ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তার কাছে শিশুকুঞ্জ সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ে কাতলাগাড়ীর মেয়েরা শিশুকুঞ্জ স্কুলকে ৫-১ গোলের সুস্পষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। দলের খেলোয়াড়েরা প্রায় ৮০% নির্ভুল পাস দিয়ে বারবার বিপক্ষের ডি-বক্সে আক্রমণ শাণায়। তাদের গোলরক্ষকও দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে একাধিক গোল প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। ফলে অনায়াসেই দ্বিতীয় ট্রফিটি নিজেদের ঘরে তোলে কাতলাগাড়ী।

ম্যাচ শেষে আয়োজকেরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রীদের খেলাধুলায় আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের স্কুল পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রীড়া সামগ্রী এবং প্রশিক্ষণের আধুনিকায়নে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তহবিল প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মতো এখানেও প্রায় $১,০০০ (এক হাজার ডলার) সমমূল্যের ক্রীড়া সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছিল। এই বিনিয়োগের ১০০% সদ্ব্যবহার করে মেয়েদের এমন দুর্দান্ত সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরা।

খেলা শেষে মাঠ প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলা ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সেক্রেটারি জনাব সাইদুর রহমান। অতিথিরা বিজয়ী দলের প্রত্যেক সদস্যকে মেডেল পরিয়ে দেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নারী শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সমাজে মেয়েদের কেবল পড়াশোনায় ভালো হলে চলবে না, শরীর ও মন সুস্থ রাখতে নিয়মিত মাঠে নামতে হবে। খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে রাখে। অন্যদিকে পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই মেয়েরাই একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পতাকা উজ্জ্বল করবে। তিনি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা মেনে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষা অফিসার আগামী প্রতিযোগিতার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

জোড়া শিরোপা নিশ্চিত করার পর এখন কাতলাগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ের পুরো নজর আগামী ১৯ তারিখের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিছুর রহমান জানান, মেয়েরা নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও বিজয়ের উল্লাস বিরাজ করছে। স্কুলের এক খেলোয়াড় জানায়, জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি যাতে আগামী ১৯ তারিখে বিভাগীয় আসরেও ঝিনাইদহের জন্য সেরা সাফল্য বয়ে আনতে পারি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ