দেশের শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং ঘরে বসে আয়ের পথ তৈরি করতে এক বিশাল সুযোগ নিয়ে এসেছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের সব অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৩ মাস মেয়াদি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই বিশেষ কোর্সটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে দেশের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’। এর মাধ্যমে হাজারো তরুণ-তরুণী নিজেদের দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে আগ্রহীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এতে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশের যেকোনো জেলার স্থায়ী নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে অংশ নিতে পারবেন। অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে ওয়েবসাইট সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, তাই শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা এবং পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করবেন, সেই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও সময়সূচি সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হবে। সফলভাবে আবেদন শেষে আবেদনপত্রটির কপি ডাউনলোড করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার দিন প্রয়োজনীয় সব সনদের মূল কপিসহ উপস্থিত থাকতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর এসএমএস ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির ওপর প্রাথমিক জ্ঞান থাকা প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। এছাড়া যারা ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষ, তাদের বাছাই পরীক্ষায় প্রায় ৫০% বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে পুরো প্রশিক্ষণ চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। মোট তিন মাসে শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচর্যা করা হবে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে টানা তিন মাসে সর্বমোট ৬০০ ঘণ্টার বাস্তবমুখী ও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া হবে। যাতে কোর্স শেষ করেই শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে মাসে অন্তত $৩০০ থেকে $৫০০ ডলার আয় করতে পারেন।
এই সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ভর্তি ফি বা টিউশন ফি দিতে হবে না। এটি শতভাগ (১০০%) ফ্রি একটি কোর্স। শুধু ফ্রিতে শেখাই নয়, প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ হিসেবে দৈনিক ২০০ টাকা হারে নগদ ভাতা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ক্লাসের দিনগুলোতে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সকালে পুষ্টিকর নাশতা, দুপুরে মানসম্মত ভারী খাবার এবং বিকেলে হালকা নাশতার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবস্থা থাকবে। তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা তরুণ-তরুণীদের কোর্স শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র প্রদান করা হবে।
দেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার কমাতে এই প্রকল্প দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শিক্ষিত নারীদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ, কারণ ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার আয় করা সম্ভব। এই কোর্সে অন্তত ৩০% থেকে ৪০% নারী প্রশিক্ষণার্থী অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার তরুণরা যেন আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ পাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠেন, সেই লক্ষ্যেই পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে।
সরকারি এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী কর্মপ্রত্যাশীদের অবিলম্বে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং নিবন্ধনের জন্য প্রার্থীদের ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েব লিংকে (https://e-laeltd.com/64-student-reg-jubo) প্রবেশ করতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করার পাশাপাশি এখন থেকেই কম্পিউটারের মৌলিক বিষয় ও সাধারণ ইংরেজি চর্চায় মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
















