চুয়াডাঙ্গায় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে সমন্বয় ও আইন-শৃঙ্খলা সভা: জনসেবা জোরদারের তাগিদ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চুয়াডাঙ্গা জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে এবং সরকারি সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জেলার সকল সরকারি দপ্তরপ্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভাও সম্পন্ন হয়। রবিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এই যৌথ সভার আয়োজন করে। বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কাজের সমন্বয় বাড়ানো এবং সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী এবং চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ নিজ নিজ কার্যালয়ের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ৮৫% অর্থ ইতোমধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়েছে। তবে কাজের গতি আরও বাড়াতে আন্তঃদপ্তর সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা একমত হন যে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের শতভাগ সদ্ব্যবহার করতে পারলে প্রান্তিক জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।

এরপর অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সীমান্ত চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং সাইবার অপরাধের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনায় আসে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়। বক্তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে $10,000 বা তার বেশি মূল্যের অবৈধ মালামাল ও মাদক প্রবেশের চেষ্টা চালায় অপরাধী চক্র। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া শহরের যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুলিশের সার্বক্ষণিক তৎপরতার কারণে গত কয়েক মাসে এলাকায় চিহ্নিত অপরাধের হার প্রায় ৩০% কমে এসেছে। তবে কিশোর গ্যাং, ডিজিটাল প্রতারণা এবং অনলাইন জুয়ার মতো নতুন সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় তিনি সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার বলেন, জেলা পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কোনো অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি প্রতিটি সরকারি বিভাগকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার সরাসরি নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় সরকারের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালিত হয়, তাই সাধারণ মানুষ যেন কোনো দপ্তরে এসে অযথা হয়রানির শিকার না হন। প্রতিটি ফাইল যেন দ্রুত নিষ্পত্তি পায় এবং প্রকল্পের কাজে যেন কোনো অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে এবং চুয়াডাঙ্গার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক। সকল দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। তিনি প্রতিটি দপ্তরের প্রধানকে প্রতি মাসের লক্ষ্যমাত্রা সঠিকভাবে পূরণ করার এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা জনকল্যাণে নিজেদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ