আয়মা রসুলপুরের ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী জুয়েল হোসেনের গণসংযোগ: ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ৩নং আয়মা রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী পরিবেশ বেশ জমে উঠেছে। এই ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন তরুণ ও উদ্যমী সমাজসেবক মোঃ জুয়েল হোসেন। প্রতীক বরাদ্দের আগেই তিনি ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে সকলের কাছে প্রাণখোলা দোয়া, সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই প্রার্থিতা ঘিরে নতুন আশা ও ইতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় জুয়েল হোসেনকে গণসংযোগে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা, ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বাস্তব সংকটগুলো তিনি খুব কাছ থেকে শুনছেন। বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রচারণাকালে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলছেন, মেম্বার নির্বাচিত হলে তিনি কোনো গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।

ওয়ার্ডবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে জুয়েল হোসেন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ১নং ওয়ার্ডে এখনও বর্ষাকালে কর্দমাক্ত রাস্তা ও জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহায়। তিনি নির্বাচিত হলে প্রথম দুই বছরের মধ্যে এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলোর কমপক্ষে ৮০% থেকে ৯০% পাকা করার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের বিভিন্ন মোড়ে সৌরবাতি স্থাপন ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টন হবে শতভাগ (১০০%) স্বচ্ছতার মাধ্যমে।

জুয়েল হোসেন তার বক্তব্যে সরকারি ভাতা ও সেবাপ্রাপ্তিতে অনিয়ম দূর করার কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো গরিব মানুষকে একটি টাকাও ঘুষ দিতে হবে না। শূন্য শতাংশ (০%) দুর্নীতির নীতিতে তিনি বিশ্বাসী। এ ছাড়া এলাকার তরুণদের বিপথগামিতা ও মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের ওয়ার্ডের বহু তরুণ বিদেশে কাজ করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বা কয়েক হাজার ডলার ($) রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের চাকা সচল রাখছেন। তাদের পরিবার যেন গ্রামে কোনো সামাজিক বৈষম্য বা হেনস্তার শিকার না হয়, সে বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করবেন।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে মোঃ জুয়েল হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি ক্ষমতার লোভে বা নিজের পকেট ভারী করতে নির্বাচনে আসিনি। আমার একমাত্র লক্ষ্য জনগণের নিঃস্বার্থ সেবা করা। ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে আমি সবসময় পাশে থাকতে চাই। আপনারা যদি আমাকে সুযোগ দেন, তবে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা আমার ঘরের দরজা আপনাদের সেবায় খোলা থাকবে।” তার এই আন্তরিক বক্তব্য স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এদিকে জুয়েল হোসেনের এমন সরব উপস্থিতি ও সহজ-সরল আচরণে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা তাকে কাছে পেয়ে মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করছেন এবং উৎসাহ জোগাচ্ছেন। ওয়ার্ডের বিভিন্ন চায়ের দোকান ও মোড়ে এখন নির্বাচনী আড্ডা জমে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের অভাব ছিল। এবার একজন উদ্যমী এবং পরোপকারী মানুষ প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন আনার প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে জুয়েল হোসেন সবাইকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখার অনুরোধ জানান। এলাকার শান্তি ও সৌহার্দ্য রক্ষা করে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তিনি সকল ভোটারের প্রতি আহ্বান জানান। জয়পুরহাটের আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের এই ১নং ওয়ার্ডে জুয়েল হোসেনের প্রার্থিতা এখন ইউনিয়নজুড়েই বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ