শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: নারীসহ ৬ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা এলাকায় দিন ও রাতভর বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারের পরপরই পুলিশ আসামিদের ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী আদালতে পাঠায়। আদালত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ সবাইকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

আদালতের রায় অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজনকে ৬ মাস করে এবং একজনকে ৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে নগদ ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করা হয়। বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিদের অতিরিক্ত আরও ৭ থেকে ১৫ দিন জেল খাটতে হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় $১০ থেকে $২০ ডলারের সমান। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে শৈলকুপা থানা এলাকায় এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়মিত নেওয়া হচ্ছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শৈলকুপার খালকুলা গ্রামের মুকুল শিকদারের ছেলে মোঃ টুটুল শিকদার (২৭)। আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা জরিমানা করেছেন, জরিমানা না দিলে তাকে আরও ১৫ দিন জেলে থাকতে হবে। একই মেয়াদের সাজা ও ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছেন মাগুরা সদর থানার জাগলা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে সুমন রানা (২২), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার মাধবপুর গ্রামের আঃ রহমানের ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম ওরফে মানিক (৩৯) এবং মাগুরা সদরের ভায়না উত্তরপাড়ার শাহাজালাল শিকদারের ছেলে স্বাধীন (২৪)। এই তিনজনও জরিমানা না দিলে অতিরিক্ত ১৫ দিন করে সাজা খাটবেন।

অন্যদিকে শৈলকুপা উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের রুস্তম মোল্লার ছেলে মোঃ সাইদুর রহমানকে (৪০) আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত ৭ দিন জেল খাটতে হবে। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সীমা বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত আরও ১০ দিন সাজা ভোগ করতে হবে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ও এলাকা পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখেছে, আসামিদের প্রায় ৫০% তরুণ, যাদের বয়স ২০ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। এছাড়া লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, সাজাপ্রাপ্তদের প্রায় ৫০% ঝিনাইদহের বাইরের বাসিন্দা। পার্শ্ববর্তী মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এসে তারা শৈলকুপার বিভিন্ন নির্জন এলাকায় মাদকের আড্ডা বসাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় রাতে ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ অন্তত ৩০% থেকে ৪০% বেড়ে গিয়েছিল। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা শৈলকুপাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। সমাজে মাদক কারবারি ও মাদক গ্রহণকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান ১০০% সফল করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। আমরা মাদকের প্রতিটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেব। ওসি আরও বলেন, যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে শুধু পুলিশ নয়, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে।

পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধমুক্ত জেলা গঠনে শৈলকুপা থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও পুরোদমে চালু থাকবে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের তথ্য পুলিশকে দেয়, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার শতভাগ আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ