আয়মা রসুলপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী এস্তামুল হকের মতবিনিময় সভা: ৫ শতাধিক মানুষের ঢল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

আসন্ন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ৩নং আয়মা রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে বইছে আগাম ভোটের হাওয়া। এই ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ এস্তামুল হকের নিজ বাসভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে এবং ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে তিনি এই সভার ডাক দেন। এতে ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে সাধারণ নারী ও পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। উপস্থিত মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০% ছিলেন নারী ভোটার, যা গ্রামীণ নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি এলাকার প্রবীণ মুরব্বি ও বিপুলসংখ্যক তরুণ এতে যোগ দেন। পুরো বাড়ি ও আশপাশের প্রাঙ্গণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। উপস্থিত ভোটাররা স্থানীয় মেম্বার প্রার্থীর কাছে এলাকার অনুন্নত রাস্তাঘাট, কালভার্ট সংস্কার এবং নাগরিক সেবা সহজ করার দাবি তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের দাবি শুনে প্রার্থী তাঁদের সব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানের আশ্বাস দেন।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ এস্তামুল হক তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন কেবল মেম্বার নির্বাচিত হলেই করতে হবে—এমন কোনো শর্ত নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবসমাজকে মাদক ও খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে কাজ করছেন। এলাকার তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তিনি নিয়মিত বিভিন্ন গ্রামে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। এছাড়া গ্রামের অসহায় ও দিনমজুর পরিবারগুলোর অসুস্থতা ও দুঃসময়ে তিনি সব সময় সাধ্যমতো আর্থিক অনুদান নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচিত হলে এই সেবার পরিধি ১০০% বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন তিনি।

উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে এস্তামুল হক বলেন, ১নং ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের একটি টাকাও তিনি নয়ছয় হতে দেবেন না। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে তিনি ০% দুর্নীতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া এলাকার অনেক পরিবারের তরুণরা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স আয় করছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত ডলার ($) যেমন জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছে, তেমনি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যেন গ্রামে নিরাপদে বাস করতে পারেন, সেই সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। নির্বাচিত হলে কোনো দালালের দৌরাত্ম্য তিনি প্রশ্রয় দেবেন না।

মতবিনিময় সভায় এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, এস্তামুল হক একজন পরোপকারী মানুষ এবং বিপদে-আপদে সব সময় সাধারণ মানুষের ডাকে ছুটে আসেন। স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা জানান, গ্রামের প্রায় ৯০% যুবক এস্তামুল হকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে একাট্টা হয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, একজন সৎ ও কর্মঠ প্রতিনিধি পেলে ওয়ার্ডের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এলাকার মুরব্বিরাও তাঁর অতীত সমাজসেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

সভায় উপস্থিত নারী ভোটারদের মধ্য থেকেও কয়েকজন নিজেদের মতামত জানান। তাঁরা বলেন, অতীতে অনেকেই ভোটের আগে নানা রঙিন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছেন, কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর সাধারণ মানুষের খোঁজ রাখেননি। তবে এস্তামুল হক আগে থেকেই এলাকার অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি মানুষের সেবা করতে ভালোবাসেন। নারী উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে তিনি সহায়তা করবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ভোটাররা একযোগে হাত তুলে প্রার্থীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মোঃ এস্তামুল হক উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ১নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের ভোটারের কাছে দোয়া, আশীর্বাদ ও মূল্যবান ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে মুখ্য নয়; তিনি জনগণের একজন বিশ্বস্ত সেবক হয়ে আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর এমন বক্তব্যে উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ