দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বোলারদের দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও জয়ের হাসিমুখে মাঠ ছাড়তে পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল টাইগ্রেসরা। বল হাতে মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুন কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপকে। কিন্তু তীরে এসে তরী ডোবালেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। তাঁর দায়িত্বশীল ও হার না মানা ব্যাটিংয়ে ভর করে নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দারুণ লড়াই জমিয়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত হতাশা আর আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো লাল-সবুজের মেয়েদের।
এই হারের ফলে নারীদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার কাছে টানা সাত ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। অন্য দিকে টানা জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লঙ্কান নারীরা। টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠার জন্য এখন নিগার সুলতানা জ্যোতিদের সামনে সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে যে কোনো মূল্যে হারাতেই হবে। তবে সেই ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে লড়তে হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে, যাদের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে মাত্র ২০% থেকে ২৫%।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতে দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস বেশ ইতিবাচক ব্যাটিং উপহার দেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.৫ ওভারে তাঁরা তোলেন ৩১ রান। জুয়াইরিয়া ১৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পরই ম্যাচের রাশ আলগা হতে থাকে। দলীয় ৫২ রানের মাথায় ২৬ রান করা দিলারা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৪) সাজঘরে ফেরেন। তিন নম্বরে নামা সোবহানা মুস্তারী এক প্রান্ত আগলে রেখে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন এবং ৩৪ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।
সোবহানা ও স্বর্ণা আক্তারের জুটিতে এক সময় ভালো সংগ্রহের আশা জাগলেও ১৭তম ওভারে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে দুজনই সাজঘরে ফিরে যান। ফলে বাংলাদেশের রানের চাকা হঠাৎ করেই পুরোপুরি থমকে যায়। ১৮ ও ১৯তম ওভারে ব্যাটাররা ডট বল খেলেন প্রায় ৬০% এবং দুই ওভার মিলিয়ে আসে মাত্র ৯ রান, যার মধ্যে ৩ রানই ছিল নো বলের উপহার। শেষ ওভারে সুগান্দিকা কুমারির বলে ফাহিমা খাতুন পরপর দুটি চার মেরে দলের সংগ্রহ কিছুটা টেনে নেন। ইনিংসের শেষ দুই বলে ফাহিমা ও মারুফা আউট হলে ১১৪ রানে থামে ইনিংস।
মাত্র ১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দেন পেসার মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তিনি বোল্ড করেন ওপেনার ইমিশা দুলানিকে (১২)। এরপর স্পিনার সুলতানা খাতুন ও রিতু মনির ঘূর্ণির সাথে যোগ হয় ফিল্ডার ফাহিমা খাতুনের নিখুঁত থ্রো। ফলে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ওই মুহূর্তে ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯০%।
কিন্তু চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা ও নিলাকশি ডি সিলভা। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৮ রানের জুটি। মারুফা আক্তার ১৮ রান করা নিলাকশিকে বোল্ড করে নিজের ৩ নম্বর উইকেট শিকার করলেও হার্শিতাকে থামানো যায়নি। বাঁহাতি এই ব্যাটার প্রান্ত ধরে রেখে ঠান্ডা মাথায় লড়াই চালিয়ে যান এবং অপরাজিত ৪৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে জয়ে পৌঁছে দেন। চমৎকার ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরা হয়ে তিনি আয়োজকদের কাছ থেকে বুঝে নেন $১,০০০ ডলারের আর্থিক পুরস্কার ও স্মারক ট্রফি।
ম্যাচ শেষে স্পষ্ট দেখা গেল, ব্যাটিং ইনিংসে শেষ দিকের ধস আর ডেথ ওভারে অভিজ্ঞতার ঘাটতিই ম্যাচটি বাংলাদেশের হাতছাড়া করেছে। মারুফা ও সুলতানার তৈরি করা দারুণ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারাটা পুরো দলের জন্যই এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে। এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আমিরাতের বিপক্ষে সব ভুল শুধরে শতভাগ বা ১০০% উজাড় করে খেলতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
















