শৈলকুপায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৭: বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৭ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাত্রিকালীন এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত অপরাধের ধরণ বিবেচনা করে প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। শৈলকুপা থানা পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপকে এলাকার সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তারা মনে করছেন এর ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে।

অভিযান চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে বিভিন্ন মাদক স্পটে হানা দেন। শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পুলিশ এই অভিযান সফল করে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি বর্তমানে শতভাগ (১০০%) কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে গোবিন্দপুর এলাকার মোঃ আবুল কালাম আজাদের ছেলে মোঃ সুমন আলী (৩২) কে ০৫ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ০৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইভাবে শৈলকুপা সদরের মৃত ফজলু রহমানের ছেলে মোঃ নয়ন মন্ডল (২৩) কে ০৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১০০০/- টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন হরিহরা গ্রামের মো: মনসুর আলীর ছেলে মো: আমিরুল ইসলাম। আদালত তাকে ০৫ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০০/- টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত ০৫ দিন জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে, ফলিয়া গ্রামের মোঃ আতিয়ার রহমানের ছেলে ২২ বছর বয়সী যুবক রিয়াজ হোসেনকে ০৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাদক সেবনের মতো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে আদালত তাকে এই কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে রিয়াজকে আরও ১০ দিন জেলখানায় থাকতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুবসমাজকে রক্ষা করতে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ থানার বেজপাড়া এলাকা থেকে আসা শ্রী নিবাস দাস (৩১), যিনি মৃত নিত্য দাসের ছেলে, তিনিও এই অভিযানে গ্রেফতার হন। আদালত তাকে ০৫ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০/- টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা না দিলে তাকে অতিরিক্ত ০৫ দিন জেল খাটতে হবে। এছাড়া উত্তর মির্জাপুর গ্রামের মোঃ আঃ মতিনের ছেলে মোঃ মিঠুন আলী (২৬) এবং একই গ্রামের মোঃ লজেন ওরফে রিয়াজুল রহমানের ছেলে মোঃ পলাশ মোল্যা (৪৪) কেও আদালত সমান শাস্তি দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে ০৫ মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদেরও অতিরিক্ত ০৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এক বিবৃতিতে জানান, জেলাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে তাদের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া মাদকের বিষ নির্মূল করতে পুলিশ প্রশাসন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অপরাধের হার ০% এ নামিয়ে আনতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পুলিশের এই তৎপরতায় শৈলকুপার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন অভিযান চললে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রবর্তনের পর থেকে পুলিশ এই আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করছে। বর্তমান সরকারের মাদকবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে শৈলকুপা থানা পুলিশ নিয়মিত টহল এবং অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণরা যাতে মাদকের নীল দংশনে হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। ২৮ আগস্টের এই সফল অভিযান তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের সাজা কার্যকর করার জন্য ইতিমধ্যে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, আদালতের এই রায় অন্যান্য মাদকসেবীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

পরিশেষে, শৈলকুপা থানা পুলিশ আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যে, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না। মাদকমুক্ত শৈলকুপা গড়ার লক্ষ্যে এই ধরনের বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শৈলকুপা থানা এখন অপরাধীদের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যদি পুলিশের এই কাজে সহায়তা করে, তবে খুব দ্রুতই শৈলকুপা একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। পুলিশের এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ