বীরগঞ্জে নতুন মডেল মসজিদ ও বেইলি ব্রিজের শুভ উদ্বোধন: মুসল্লিদের মাঝে আনন্দ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দিনাজপুরের বীরগঞ্জবাসীর জন্য বুধবার দিনটি ছিল অত্যন্ত আনন্দের ও বিশেষ গুরুত্বের। উপজেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বীরগঞ্জ মডেল মসজিদ। এর পাশাপাশি সিংড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের বিষফোঁড়া বেইলি ব্রিজটিও নতুনভাবে সংস্কার করে চালু করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) যোহরের নামাজের আগে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।

মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এদিন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সংসদ সদস্য যখন মসজিদের নামফলক উন্মোচন করেন, তখন উপস্থিত শত শত মুসল্লির মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। মসজিদের আধুনিক কারুকাজ এবং সুন্দর পরিবেশ দেখে স্থানীয়রা সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ফলক উন্মোচন শেষে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল হাসিম। এরপর নবনিযুক্ত ইমাম মাওলানা মতিয়ার রহমানের ইমামতিতে সংসদ সদস্যসহ উপস্থিত সকলে নতুন মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করেন।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমা খাতুন এই বিশাল আয়োজনের তদারকি করেন। এছাড়া বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহজাহান আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা সংসদ সদস্যের সাথে ছিলেন। প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, এই মসজিদটি নির্মাণে ১০০% আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা কয়েক দশক ধরে এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র হয়ে থাকবে।

মডেল মসজিদ উদ্বোধনের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও দলমত নির্বিশেষে উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক ভিপি রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার এবং সাধারণ সম্পাদক নমিরুল ইসলাম চৌধুরী সেনাসহ আরও অনেক নেতা-কর্মী সেখানে হাজির হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বীরগঞ্জের উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে এই মসজিদটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এলাকার নারী ও পুরুষ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদের আঙিনা এদিন জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

মডেল মসজিদ উদ্বোধনের আগে সংসদ সদস্য সিংড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে থাকা বেইলি ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। সিংড়া পার্কে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য এই ব্রিজটি ছিল এক বড় বাধা। নড়বড়ে ব্রিজের কারণে আগে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। নতুন করে ব্রিজটি চালু হওয়ার ফলে পর্যটকদের যাতায়াত এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ব্রিজটির সংস্কার হওয়ায় তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে এখন সময় ও খরচ প্রায় ৩০% কমে আসবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সাংসদ মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন, মডেল মসজিদগুলো কেবল ইবাদতখানা নয়, বরং এখান থেকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। সিংড়া পার্কের বেইলি ব্রিজটি মেরামত করায় পর্যটন খাতে অন্তত ৫০% আয় বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। উন্নয়নমূলক এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের সহায়তা পাওয়ায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বীরগঞ্জের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ প্রায় ৮০% শেষ হয়েছে।

নামাজ শেষে সংসদ সদস্য স্থানীয় মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এমন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। মসজিদের বিশাল গম্বুজ ও মিনার বীরগঞ্জ শহরের সৌন্দর্যকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংসদ সদস্য ঢাকার উদ্দেশ্যে বীরগঞ্জ ত্যাগ করেন। এই দিনটি বীরগঞ্জের মানুষের জন্য এক স্মরণীয় দিন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। উন্নয়ন আর ধর্মীয় চেতনার এই মেলবন্ধন বীরগঞ্জকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সবাই বিশ্বাস করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ