পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক বিশাল সিরাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বনবীর আগমনী বার্তা আর তাঁর সুমহান আদর্শ সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে এই মাহফিলকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। মাহফিলটি সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হবে মাউদিয়া এলাকায় অবস্থিত উপজেলা জামায়াত অফিসে। অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৫টায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শৈলকুপা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক এ এস এম মতিউর রহমান। তাঁর উপস্থিতিতে মাহফিলটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মাহফিলে যোগ দিয়ে রাসুলের (সা.) জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবেন।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, মাহফিল সফল করতে তারা ইতোমধ্যে ১০০% প্রস্তুতি নিয়েছেন। শৈলকুপার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মানুষ যাতে সহজে অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। প্রায় ৫০টিরও বেশি স্থানে পোস্টার ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ এই দাওয়াত পান। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাহফিলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগত মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল এবং বসার জন্য সুশৃঙ্খল প্যান্ডেলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাহফিলের মূল আলোচনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সিরাত বা জীবনী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তাঁর বাল্যকাল থেকে শুরু করে নবুয়ত লাভ এবং মদিনায় আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী ইতিহাস নিয়ে ওলামায়ে কেরামরা আলোচনা করবেন। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে নবীর শিক্ষা ও তাঁর দেখানো পথ কতটা জরুরি, সে বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করা হবে। আলোচকরা ইসলামের মানবিক দিক, ন্যায়বিচার ও সাম্যবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সময়ে দেশের যে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে সাহায্য চাওয়া হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মুনাজাত করা হবে। এই বিশেষ দোয়ায় অংশ নিতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আয়োজকরা মনে করেন, এই মাহফিল মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
শৈলকুপার এই সিরাত মাহফিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির একটি বড় মাধ্যম। আয়োজকদের দাবি, রাসুলের (সা.) সুমহান আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে মেনে চললে সমাজে অপরাধ প্রবণতা অন্তত ৮০% কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে এই ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এই মাহফিলের প্রধান লক্ষ্য।
পরিশেষে, শৈলকুপার এই সিরাত ও দোয়া মাহফিল সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণ কামনা করেছেন আয়োজকরা। রাসুলের (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজক কমিটির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এই মহতি অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানুষ এখান থেকে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
















