ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবকের জেল ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করার আদেশ দিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে। জেলাজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চলছে, এই অভিযান তারই একটি অংশ বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নির্দেশে পুলিশের একটি দল গভীর রাতে এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এসময় মাদক সেবনরত অবস্থায় তিন যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলামিন মোল্লার ছেলে ১। আবু হুরাইয়া, আবইপুর গ্রামের বাহারুল শেখের ছেলে ২। নাইম শেখ এবং একই এলাকার যোগিপাড়া গ্রামের লতাপদ হোসেনের ছেলে ৩। লিংকন হোসেন। তাদের গ্রেপ্তারের পর রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত এই তিন আসামিকে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। শৈলকুপা থানার পুলিশ সদস্যরা আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য হাজির করেন। পুলিশ জানায়, মাদকের থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন এবং ১০০% স্বচ্ছতার সাথে এই মামলাটি পরিচালনা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে তিন আসামিকে তিন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি আবু হুরাইয়াকে ৫ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন বিচারক। এর পাশাপাশি তাকে ৩০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যদি সে এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই আদালত এই সাজা দিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের এই রায়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মামলার ২ নম্বর আসামি নাঈম শেখের ক্ষেত্রে আদালত ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪০০০/- টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের জেল প্রদানের আদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৩ নম্বর আসামি লিংকন হোসেনকে ২ মাস ১৫ দিনের জেল এবং ১০০০/- টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার এই টাকা দিতে না পারলে তাকে আরও অতিরিক্ত ৭ দিন জেলখানায় থাকতে হবে। মাদক সেবনের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের কাছে মাদক বিক্রেতা কিংবা সেবনকারী উভয়ই অপরাধী। ২৬ আগস্টের এই সফল অভিযান এবং আদালতের দ্রুত রায় আমাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আরও জানান, এলাকার শান্তি রক্ষায় রাত্রিকালীন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে ঝিনাইদহের এই অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকের কারণে পরিবারগুলোতে অশান্তি লেগেই থাকে এবং অপরাধের হার বেড়ে যায়। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং অপরাধীদের সাজার আওতায় আনার ঘটনাটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। পুলিশ প্রশাসন আশা করছে, এই ধরনের সাজার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদক সেবনের হার অন্তত ২০% থেকে ৩০% কমে আসবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জনগণের সহায়তা কামনা করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ