পূর্বধলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ: স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত, তারেক রহমানকে এমপি মানসুরা আলমের অভিনন্দন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email


নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত। উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পুরো উপজেলাজুড়ে এখন খুশির আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো জেগেছে।

গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করা হয়েছে। এই আদেশে জানানো হয়েছে যে, সারা দেশের মোট ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে এখন থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া দেশের নতুন আরও ১৩টি উপজেলায় নতুন করে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানে হলো, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ আরও বেশি ডাক্তার, নার্স এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বর্তমানে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০টি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রতিদিন সেখানে রোগীর চাপ থাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১০০% থেকে ১২০% বেশি রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০টি বেডের বিপরীতে যখন ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, তখন ডাক্তার ও নার্সদের সেবা দিতে চরম হিমশিম খেতে হয়। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ হবে, যা এই সমস্যার অন্তত ৮০% সমাধান করে ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্বধলা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মানসুরা আলম এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “পূর্বধলার মানুষ অনেক দিন ধরে সঠিক এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়ে আগে সেভাবে কাজ করা হয়নি। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশব্যাপী প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে পূর্বধলা কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। এজন্য আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং পূর্বধলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) তৈরি করতে হবে। একই সাথে নতুন করে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্টাফদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বধলায় শুধু বেড বাড়বে না, বরং আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ল্যাবরেটরি এবং প্যাথলজি বিভাগের সক্ষমতাও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। এলাকার মানুষ মনে করছেন, হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে সাধারণ অসুখের জন্য আর রোগীদের জেলা শহর বা ঢাকায় গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না। এতে করে সাধারণ মানুষের পকেটের প্রায় ৩০% থেকে ৪০% খরচ বেঁচে যাবে।

এমপি মানসুরা আলম আরও জানান, তিনি শুধু স্বাস্থ্য নয়, এলাকার সব ধরণের সমস্যার দিকে নজর রাখছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা পরিস্থিতির যে অবনতি হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি সচেতন। তিনি পূর্বধলার বর্তমান আবহাওয়া এবং পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “আমি ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম এবং আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে যেকোনো দুর্যোগ মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়। মানুষের বিপদে পাশে থাকাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে পূর্বধলার স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে। গ্রামের দরিদ্র মানুষ যারা ভালো চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছিলেন, তারা এখন ঘরের কাছেই সরকারি খরচে ভালো সেবা পাবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা দ্রুত এই নতুন শয্যার কার্যক্রম শুরু করতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। নতুন ভবন নির্মাণ এবং জনবল নিয়োগ শেষ হলে পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জেলার অন্যতম সেরা হাসপাতালে পরিণত হবে।

পরিশেষে বলা যায়, ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের এই আদেশটি পূর্বধলাবাসীর জন্য একটি বড় অর্জন। এটি শুধু একটি ভবন বাড়ানো নয়, বরং এলাকার লাখো মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি স্থায়ী গ্যারান্টি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যদি সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পূর্বধলার স্বাস্থ্য খাতের চিত্র ১০০ ভাগ বদলে যাবে। সাধারণ মানুষ এখন প্রহর গুনছেন কবে নাগাদ তারা এই পূর্ণাঙ্গ সেবা ভোগ করতে পারবেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ