পিঁয়াজের দাম না থাকা এবং পিঁয়াজ পোচে যাওয়ায় কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ কিভাবে পার করবে আগামী দিনগুলো

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি এবং কৃষক। সকালের রোদ থেকে শুরু করে বিকেলের গোধূলি পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষক আমাদের মুখের অন্ন জোগান দেন, সেই কৃষকের মুখে আজ হতাশার কালো মেঘ। বিশেষ করে বর্তমানে পিঁয়াজ চাষিদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ীসহ দেশের যেসব অঞ্চলে প্রচুর পিঁয়াজ উৎপাদিত হয়, সেখানকার কৃষকদের ঘরে এখন কান্নার রোল।

একদিকে বাজারে পিঁয়াজের ন্যায্য দাম নেই, অন্যদিকে ঘরে মজুত করে রাখা পিঁয়াজ গরমে ও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় পচে যাচ্ছে। যে পিঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের সারা বছরের সংসারের খরচ চলার কথা, সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়ার কথা, কিংবা কিস্তির টাকা শোধ করার কথা সেই পিঁয়াজ এখন পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কৃষকের স্বপ্নের ফসল আজ পরিণত হয়েছে গলার কাঁটায়। বর্তমান এই কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কৃষকের মনে একটাই প্রশ্ন কীভাবে পার হবে আগামী দিনগুলো? পিঁয়াজ চাষিদের এই চরম দুর্দশা, এর পেছনের কারণ এবং এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আজ আমরা একটি গভীর ও বাস্তবমুখী বিশ্লেষণ করব।

সংকটের গভীরতা: কৃষকের বর্তমান চালচিত্র

পিঁয়াজ চাষিদের বর্তমান অবস্থা বাইরে থেকে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, বাস্তবে তা কতটা ভয়াবহ, তা গ্রামের কৃষকের উঠানে গেলেই বোঝা যায়। এই সংকটের গভীরতা মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল উৎপাদন খরচের সাথে বাজারদরের বিশাল পার্থক্য এবং পিঁয়াজ সংরক্ষণের চরম ব্যর্থতা।

উৎপাদন খরচ বনাম বর্তমান বাজারদর

একজন কৃষক যখন পিঁয়াজের বীজ বোনেন, তখন থেকেই তার খরচের খাতা খুলতে হয়। গত কয়েক বছরে কৃষি উপকরণের দাম জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। উন্নত মানের পিঁয়াজের বীজ, জমি চাষ করার জন্য ট্রাক্টরের ভাড়া, রাসায়নিক সার (যেমন- ইউরিয়া, পটাশ, ডিএপি), এবং পোকা দমনের জন্য কীটনাশকের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এর পাশাপাশি রয়েছে দিনমজুর বা কৃষি শ্রমিকের মজুরি। জমি নিড়ানো থেকে শুরু করে পিঁয়াজ তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শ্রমিকের পেছনে বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়।

হিসাব করলে দেখা যায়, এক মণ পিঁয়াজ উৎপাদন করতে একজন কৃষকের যে টাকা খরচ হয়, বর্তমান বাজারে পিঁয়াজ বিক্রি করতে গেলে সেই উৎপাদন খরচটুকুও উঠছে না। অনেক সময় বাজারদর এতই নিচে নেমে যায় যে, খেত থেকে পিঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ভ্যান ভাড়াও কৃষকের পকেট থেকে দিতে হয়। লাভের আশায় বুক বাঁধা কৃষক যখন দেখেন আসল টাকাই ঘরে আসছে না, তখন তার বুক ফেটে কান্না আসে।

পচে যাওয়া পিঁয়াজ: কৃষকের চোখের জল

পিঁয়াজ এমন একটি ফসল, যা সাধারণ তাপমাত্রায় বেশিদিন ভালো রাখা যায় না। কৃষকরা সাধারণত দাম বাড়ার আশায় পিঁয়াজ তোলার পর ঘরের মেঝেতে বা বাঁশের মাচায় (স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘চাং’ বলা হয়) সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এবার অতিরিক্ত গরম, লোডশেডিং এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে ঘরে রাখা পিঁয়াজ ব্যাপক হারে পচে যাচ্ছে।

কৃষকের বাড়ির উঠানে গেলে এখন এক করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে। পরিবারের সবাই স্বামী, স্ত্রী, সন্তান মিলে বসে আছেন পিঁয়াজের স্তূপের সামনে। ভালো পিঁয়াজ থেকে পচা পিঁয়াজ আলাদা করার এক ক্লান্তিকর সংগ্রাম চলছে প্রতিদিন। পচে যাওয়া পিঁয়াজগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে ভাগাড়ে বা পুকুরে। যে পিঁয়াজগুলো সন্তানের মতো যত্ন করে ফলানো হয়েছিল, তা যখন পচে পানি হয়ে যায়, তখন কৃষকের মনে হয় তার নিজের শরীরের রক্ত পানি হয়ে যাচ্ছে। এই পচা পিঁয়াজের দুর্গন্ধের সাথে মিশে আছে কৃষকের চাপা হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।

কৃষকের আর্থসামাজিক জীবনে এই সংকটের প্রভাব

পিঁয়াজের দাম না থাকা এবং ফসল পচে যাওয়ার এই ঘটনা শুধু একটি আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি কৃষকের পুরো জীবনব্যবস্থাকে তছনছ করে দেয়। এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী।

ঋণের দুষ্টচক্র ও কিস্তির চাপ

আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র কৃষকের নিজস্ব কোনো মূলধন থাকে না। তারা পিঁয়াজ চাষ করার জন্য স্থানীয় এনজিও (NGO), ব্যাংক, বা গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। আশা থাকে, ফসল ওঠার পর ভালো দামে বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন। কিন্তু পিঁয়াজের দাম না থাকায় এবং ফসল পচে যাওয়ায় কৃষকের সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ফসল পচুক বা না পচুক, এনজিও কর্মী বা মহাজন তো আর কিস্তির টাকা নিতে ভুলবেন না। প্রতি সপ্তাহে বা মাসে কিস্তির টাকার জন্য যখন তাগাদা দেওয়া হয়, তখন কৃষক চরম অপমানের মুখে পড়েন। ঋণ শোধ করতে না পেরে অনেক কৃষক পালিয়ে বেড়ান, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে শেষ সম্বল আবাদি জমি বা হালের গরু বিক্রি করে দেন। এভাবেই একজন কৃষক ঋণের এক ভয়ংকর দুষ্টচক্রে আটকে যান।

পারিবারিক ও দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম

পিঁয়াজ বিক্রি করে পাওয়া টাকার ওপরেই কৃষকের পুরো বছরের পারিবারিক বাজেট নির্ভর করে। যখন সেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সংসারে নেমে আসে চরম অভাব। সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়া, খাতা-কলম কেনা বন্ধ হয়ে যায়। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য জরুরি ওষুধটুকু কেনার টাকা থাকে না। পরিবারের তিন বেলার পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামনে কোনো উৎসব বা ঈদ এলে কৃষকের বাড়িতে কোনো আনন্দ থাকে না, থাকে শুধু নীরব কান্না। অভাবের কারণে অনেক সময় সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বাড়ে, যা পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে।

কেন এমনটা বারবার ঘটছে?

কৃষকের এই দুর্দশা এবারই প্রথম নয়। প্রায় প্রতি বছরই পিঁয়াজের ভরা মৌসুমে কৃষকদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। কিন্তু কেন বারবার এমনটা ঘটছে? এর পেছনে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত দুর্বলতা ও নীতিগত ব্যর্থতা রয়েছে।

অপরিকল্পিত আমদানি নীতি

আমাদের দেশে পিঁয়াজের দাম কমার সবচেয়ে বড় কারণ হলো সরকারের অপরিকল্পিত আমদানি নীতি। যখন আমাদের দেশের কৃষকদের খেত থেকে নতুন পিঁয়াজ উঠতে শুরু করে, ঠিক তখনই দেখা যায় বিদেশ (বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত) থেকে শয়ে শয়ে ট্রাক পিঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। শহুরে ভোক্তাদের সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে সরকার অনেক সময় আমদানির অনুমতি দেয়। বিদেশি পিঁয়াজ বাজারে ঢুকে পড়লে দেশি পিঁয়াজের দাম একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। কৃষক তখন বাধ্য হয়ে পানির দরে পিঁয়াজ বিক্রি করেন। ফসল ওঠার সময় যদি আমদানি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে দেশি কৃষক কখনোই ন্যায্যমূল্য পাবেন না।

কোল্ড স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারের চরম অভাব

আলু সংরক্ষণের জন্য আমাদের দেশে অনেক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার থাকলেও, পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোনো হিমাগার নেই বললেই চলে। পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা সাধারণ হিমাগারে থাকে না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে সনাতন পদ্ধতিতে ঘরে পিঁয়াজ রাখেন, যা গরমে পচে যায়। যদি উপজেলা পর্যায়ে, যেমন শৈলকুপার মতো পিঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হতো, তবে কৃষককে আজ এই পচা পিঁয়াজ ফেলে দিয়ে কাঁদতে হতো না।

মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

কৃষি বাজারের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল চক্র। কৃষক যখন পিঁয়াজ বিক্রি করেন, তখন দালালরা একজোট হয়ে (সিন্ডিকেট করে) দাম কমিয়ে দেয়। কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে তাদের কাছে পিঁয়াজ বিক্রি করে দেন। আর কয়েক মাস পর যখন কৃষকের ঘরে আর পিঁয়াজ থাকে না, তখন এই দালালরাই সেই পিঁয়াজ বাজারে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা লুটে নেয়। কৃষকের ঘামের টাকায় দালালরা বড়লোক হয়, আর কৃষক থাকে সেই চিরকাল গরিব।

কীভাবে পার করবে আগামী দিনগুলো?

সবচেয়ে বড় ও নির্মম প্রশ্ন হলো সব হারিয়ে এই পিঁয়াজ চাষিরা তাদের আগামী দিনগুলো কীভাবে পার করবেন?

বাস্তবতা হলো, টিকে থাকার জন্য কৃষকদের এখন কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। আবাদি জমি বর্গা দিয়ে বা ফেলে রেখে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন দিনমজুরের কাজ করতে। কেউ ভ্যান চালাচ্ছেন, কেউ বা রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছেন। যারা গ্রামে থাকছেন, তারা বেঁচে থাকার তাগিদে চড়া সুদে নতুন করে ঋণ নিচ্ছেন।

কিন্তু এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। কৃষক যদি কৃষিকাজ ছেড়ে দেন, তবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। আগামী দিনগুলোতে যদি কৃষকদের আবার মাঠে ফেরাতে হয়, তবে তাদের মনে ভরসা জোগাতে হবে।

উত্তরণের উপায়: আমাদের কী করণীয়?

কৃষকের মুখের এই হতাশার ছাপ মুছে ফেলতে হলে রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারক এবং সমাজকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, প্রয়োজন কিছু দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

১. জরুরি সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা

যেসব কৃষকের পিঁয়াজ পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা দিতে হবে। এনজিও বা কৃষি ব্যাংকের ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিতে হবে এবং ঋণ মওকুফ বা বিনা সুদে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা আগামী মৌসুমে আবার চাষাবাদ করতে পারেন।

২. আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ

কৃষককে বাঁচাতে হলে ফসল ওঠার মৌসুমে অর্থাৎ ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। সরকারকে পিঁয়াজের জন্য একটি ‘ন্যূনতম সহায়ক মূল্য’ (Minimum Support Price) নির্ধারণ করে দিতে হবে। অর্থাৎ, সরকার এমন একটি দাম বেঁধে দেবে, যার নিচে কেউ পিঁয়াজ কিনতে পারবে না। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

৩. আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রতিটি পিঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলে (যেমন- ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, পাবনা) পিঁয়াজ সংরক্ষণের উপযোগী আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। কৃষকরা যাতে নামমাত্র ভাড়ায় সেখানে তাদের উৎপাদিত পিঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এতে পিঁয়াজ পচে যাওয়ার মতো ট্র্যাজেডি আর ঘটবে না এবং সারা বছর বাজারে পিঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

৪. কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার

অতিরিক্ত পিঁয়াজ উৎপাদন হলে তা দিয়ে পিঁয়াজের পেস্ট, গুঁড়া বা প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরির জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে। এতে পিঁয়াজের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের ভালো দাম পাবেন।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ” এটি শুধু কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি অমোঘ সত্য। পিঁয়াজের দাম না থাকা এবং চোখের সামনে কষ্টে ফলানো পিঁয়াজ পচে যাওয়ার দৃশ্য একজন কৃষকের জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা এসি রুমে বসে উপলব্ধি করা কঠিন। যে হাত আমাদের জন্য অন্ন ফলায়, সেই হাত আজ দেনার দায়ে বাঁধা। কৃষকের মুখের এই হতাশার ছাপ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত।

আজ যদি আমরা পিঁয়াজ চাষিদের পাশে না দাঁড়াই, যদি তাদের আগামী দিনগুলো পার করার জন্য কোনো ভরসার হাত বাড়িয়ে না দিই, তবে কাল হয়তো তারা আর পিঁয়াজ চাষ করবেন না। তখন বিদেশ থেকে চড়া দামে পিঁয়াজ কিনে আমাদের খেতে হবে। তাই এখনই সময় কৃষকের কান্নার আওয়াজ শোনার। কৃষকের ঘামের সঠিক মূল্যায়ন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং দালালমুক্ত বাজার তৈরি করার মাধ্যমেই কেবল আমরা কৃষকের মুখে পুনরায় হাসি ফোটাতে পারি। কৃষকের উঠানে যেদিন পচা পিঁয়াজের দুর্গন্ধের বদলে নতুন ফসলের সুবাস ছড়াবে এবং তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য তারা পকেটে নিয়ে ঘরে ফিরবেন, সেদিনই আমাদের দেশ সত্যিকার অর্থে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশে পরিণত হবে।


সম্পর্কিত নিবন্ধ