দর্শনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত, প্রবীণদের সুরক্ষার তাগিদ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

‘প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। দিবসটি ঘিরে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ০১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দর্শনা পৌর প্রবীণ কমিটি দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করে। সকাল থেকেই পৌর প্রবীণ কমিটির পুরাতন বাজার কার্যালয়ে স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে ওঠে। উৎসবমুখর এই দিনে জমকালো শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রবীণদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১:০০ টার সময় দর্শনা পুরাতন বাজারের প্রবীণ কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় উপস্থিত প্রবীণরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমাজে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করার বার্তা ছড়িয়ে দেন। পথের দুই পাশে সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে তাঁদের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। র‍্যালি শেষে কার্যালয়ে অতিথিবৃন্দ এবং প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিবসটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে একটি কেক কাটা হয়।

র‍্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দর্শনা পৌর প্রবীণ কমিটির সভাপতি হাজী মো: ফজলুল হক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, প্রবীণ ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের বোঝা নন, বরং তাঁরা অভিজ্ঞতার মূল্যবান সম্পদ। জীবনের বড় অংশ তাঁরা পরিবার ও দেশের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। তাই শেষ বয়সে এসে তাঁরা যেন অবহেলা বা নিঃসঙ্গতায় না ভোগেন, সেদিকে সমাজকে ১০০% দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

ইউএনও আরও বলেন, সরকার প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে নিয়মিত সুরক্ষা ভাতা প্রদান করছে। তিনি বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভর না করে প্রবীণদের জীবনমান বাড়াতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে পারিবারিক সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মের উচিত প্রবীণদের সান্নিধ্যে থেকে তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দামুড়হুদা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাজমুল হোসেন। তিনি জানান, বার্ধক্যে এসে প্রায় ৮০% মানুষই নানা ধরনের অসংক্রামক ব্যাধি ও আর্থিক সংকটে পড়েন। সমাজসেবা বিভাগ এই সংকট কমাতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াচ্ছে। এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার হাজী মোখলেসুর রহমান টিপু তরফদার বলেন, প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও ডে-কেয়ার সেন্টার গড়তে সমাজের সক্ষম ব্যক্তিদের অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। উন্নত বিশ্বে প্রবীণদের জীবনমান ধরে রাখতে কোটি কোটি $ ডলারের বিশেষ প্রকল্প থাকে, আমাদের দেশেও স্থানীয় পর্যায়ে এমন সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানো দরকার।

বিশেষ অতিথি দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক মাহবুব-উল ইসলাম খোকন বলেন, অভিজ্ঞ প্রবীণদের কার্যকর পরামর্শ ছাড়া টেকসই সমাজ গঠন অসম্ভব। তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি সেবাকেন্দ্রে প্রবীণদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক সেবা নিশ্চিতের দাবি তোলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী মোঃ কামরুজ্জামান যুদ্ধ। তিনি গ্রামীণ প্রবীণদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তাঁদের সংস্থার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের প্রবীণদের কল্যাণে এনজিও ও সমাজসেবী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।

দর্শনা পৌর প্রবীণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: আকমত আলী বলেন, প্রবীণদের মানসিক প্রশান্তির জন্য সামাজিকভাবে নানা বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড দরকার। সভাপতির বক্তব্যে হাজী মো: ফজলুল হক বলেন, প্রবীণরা কারো অনুগ্রহের পাত্র নন, তাঁরা সম্মানের দাবিদার। তিনি উপস্থিত সকল প্রবীণকে পরিবারের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি গভীর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী একাত্ম হলে দর্শনার কোনো প্রবীণ অবহেলার শিকার হবেন না।

বক্তারা প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনের নতুন ভাবনায় তাঁদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রবীণ নেতাদের সরব উপস্থিতিতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয়। আয়োজক কমিটি ভবিষ্যতেও প্রবীণদের সামগ্রিক কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিতে নিয়মিত সামাজিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ