যশোরে জাল ভিসা দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: আনোয়ারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতারণার শিকার দুই ব্যক্তি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা কুলিয়ার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম। তারা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাবাজি ও মানবপাচারের মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। নিজেদের ওপর আনা সেই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে এবং পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবিতে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান জানান, নিজের ছেলে ও শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য তিনি জীবনের ১০০% সঞ্চয় তুলে দেন আনোয়ারের হাতে। ছেলেকে সিঙ্গাপুর ও শ্যালক মিকাইল হোসেনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে আনোয়ার বিভিন্ন সময় মোট ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকা হাতিয়ে নেন। কিছুদিন পর ছেলেকে সিঙ্গাপুরের যে ভিসাটি দেওয়া হয়, সেটি ছিল সম্পূর্ণ জাল। অন্যদিকে শ্যালক মিকাইলকে মালয়েশিয়ায় পাঠালেও কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার ভিসা ভুয়া বলে শনাক্ত করেন এবং তাকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠান।

ওবায়দুর রহমান বলেন, টাকা ফেরত চেয়ে বারবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে ২০০৭ সালের ১০ মে তিনি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডারের কাছে লিখিত নালিশ করেন। পরবর্তীতে সেনা ক্যাম্প থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন কোনো শালিস বা শুনানিতে অংশ নেননি। উল্টো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান এবং কোনো তোয়াক্কা না করে আত্মসাৎ করা টাকা নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকেন।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুল করিম সংবাদ সম্মেলনে জানান, উন্নত জীবনের আশায় তিনিও সিঙ্গাপুর যাওয়ার চুক্তি করেছিলেন আনোয়ারের সাথে। আনোয়ার তার কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা আদায় করেন। করিম ২০০৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর নগদ ৩,০০,০০০ টাকা, ২০০৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ৫৫,০০০ টাকা এবং একই বছরের ২ এপ্রিল আরও ১,০০,০০০ টাকা দেন। অর্থাৎ তিনি মোট ৪,৫৫,০০০ টাকা এবং নিজের মূল পাসপোর্টটি আনোয়ারের হাতে সোপর্দ করেন। কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তিনি বিদেশ যেতে পারেননি, এমনকি তার পাসপোর্ট ও টাকাও ফেরত পাননি।

দীর্ঘদিন ঘুরেও টাকা উদ্ধার করতে না পেরে আব্দুল করিম চলতি বছরের ২ জুন আদালতের দ্বারস্থ হন এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আনোয়ার হোসেন কোনো সাধারণ দালাল নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারের প্রতারণার আরও বেশ কয়েকটি বড় ঘটনার হিসাব তুলে ধরা হয়। ওবায়দুর ও করিম দাবি করেন, আনোয়ার শুধু তাদের সঙ্গেই নয়, আরও অনেকের সাথে প্রতারণা করেছেন। তিনি যশোর সদরের তেঘরী গ্রামের ওহায়েদ আলীর কাছ থেকে ২০,০০,০০০ টাকা, ঝিকরগাছার মল্লিকপুরের মনিরা বেগমের কাছ থেকে ৩,৮৫,০০০ টাকা, বাগআঁচড়ার কবীরের কাছ থেকে ১৭,০০,০০০ টাকা এবং ঢাকার সুলতানা নামের এক নারীর কাছ থেকে ১৭,১৬,০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রামের গরিব মানুষদের কাছ থেকে এভাবে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি হাজার হাজার $ (ডলার) সমমূল্যের সম্পদ লুটে নিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা কারো ব্যক্তিগত সম্মানহানি করতে চান না। তারা কেবল নিজেদের ঘাম ঝরানো অর্থ ফেরত এবং এই চক্রের বিচার চান। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। সব নথিপত্র ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে রিয়াদ ইসলাম বাপ্পি, মাহবুবুর রহমান সোহেল ও আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ