ডেঙ্গু প্রতিরোধে যশোরে নগর বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ: পরিচ্ছন্নতার আহ্বান

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ রুখতে মাঠে নেমেছে যশোর নগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিনভর যশোর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে এই লিফলেট তুলে দেন।

বিতরণ করা লিফলেটে ডেঙ্গুর লক্ষণ, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ডেঙ্গু মূলত একটি মশাবাহিত ভাইরাস রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার ঠিক আগে মানুষকে বেশি কামড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশা দ্রুত ডিম পাড়ে। তাই বাসা-বাড়ির বারান্দার টব, ছাদ, ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা ও মোটরগাড়ির পুরনো টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। লিফলেটে কোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর আহ্বান জানানো হয়।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে লিফলেটে জানানো হয়, অসচেতনতার কারণে প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% বেড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক সাধারণ পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে, যেখানে গড়ে প্রায় $১০০ ডলার বা তার বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায়। তাই দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় ১০০% মশারি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন আয়োজকেরা।

জনসংযোগের সময় যশোর নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। লিফলেট বিতরণকালে যশোর নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মুলুক চাঁদ ও সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, নগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, আবুল কাশেম কালু, প্রফেসর কুদ্দুস হোসেন এবং নওশের আলী। নেতারা প্রতিটি দোকান ও বাড়িতে গিয়ে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

কর্মসূচিতে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের নেত্রী জলি বেগম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান বাপ্পি, নগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরাগ হোসেন এবং যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ নোমান হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল হোসেন এতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও যোগ দেন নগর ছাত্রদল নেতা রাব্বি হোসেন, মোহাম্মদ সাদী এবং মহিলা দলের নেত্রী কাজল রেখা, বিউটি বেগম, রোজিনা বেগম, সোমা পারভিন, আলো আপা ও কাকলি।

পথসভায় নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মুলুক চাঁদ বলেন, শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, মশা মারার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে পৌরসভার কার্যকর পদক্ষেপ প্রায় ৪০% এলাকায় পৌঁছায় না। ফলে নগরবাসীকে নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কেবল ক্ষমতার রাজনীতি করে না, যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই যশোরে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ না হারায়।

সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু বলেন, প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ আঙিনা দিনে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় দিয়ে পরিষ্কার রাখেন, তবে এডিস মশার বিস্তার অনায়াসেই রোধ করা সম্ভব। পথচারী ও এলাকাবাসী বিএনপির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। নগর বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পর পর্যায়ক্রমে যশোরের বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। সবাইকে সচেতন করে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত যশোর শহর গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

সম্পর্কিত নিবন্ধ