গোহালাকান্দায় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ফজল: নাগরিক সেবায় কাটছে ব্যস্ত সময়

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ১১ নম্বর গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদে টানা কয়েক বছর ধরে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ফজল। ২০২২ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি এই পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি স্থানীয় তৃণমূল মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল তথ্যভান্ডারেও চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং সরাসরি সরকারি নানা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিকভাবে গোহালাকান্দা ইউনিয়ন নেত্রকোণা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী শ্যামগঞ্জ বাজারকে কেন্দ্র করে এই ইউনিয়নের পরিচিতি অনেক পুরনো। শ্যামগঞ্জের বাণিজ্যিক এলাকা নেত্রকোণার পূর্বধলা এবং পাশের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার কৃষিপণ্য ও পাইকারি ব্যবসা চলে, যার অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হিসাবে লাখ লাখ $ ডলার সমমানের। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত জনপদের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ফজলকে নিয়মিত বাড়তি নজর রাখতে হয়।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একেবারে প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনেই ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় আসতে হয়। আনোয়ার হোসেন ফজল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নাগরিক সনদ, নতুন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ১০০% নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করছেন, যার ফলে এলাকার প্রায় ৮০% পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়াই দ্রুত মিটে যাচ্ছে। এতে সাধারণ ও গরিব মানুষদের আদালত পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি ও বিপুল অর্থ অপচয় থেকে বড় ধরনের মুক্তি মিলছে।

সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও চেয়ারম্যান ফজল অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সৌরবাতি স্থাপনের পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো তিনি সরাসরি তদারকি করেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ডের খাদ্য সহায়তা বিতরণে তিনি কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকে প্রশ্রয় দেন না। ইউনিয়নের প্রান্তিক ও অসহায় পরিবারের কাছে শতভাগ সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি নিজের প্রধান কাজ মনে করেন। সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্ব ঘুচিয়ে তিনি সেবার পথ সহজ করেছেন।

জনসেবার এই অনুপ্রেরণা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ফজল পেয়েছেন সরাসরি পারিবারিক সূত্রে। তাঁর বাবাও অতীতে দীর্ঘ সময় সততার সঙ্গে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার বাবা সারা জীবন গোহালাকান্দার মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। ইউনিয়নবাসী ভালোবেসে আমাকেও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দুর্লভ সুযোগ দিয়েছেন। মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার ঋণ আমি কখনো ভুলব না। তাই যতদিন বেঁচে থাকব, আমৃত্যু গোহালাকান্দার মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে থাকতে চাই।”

চেয়ারম্যানের এমন কাজের কারণে গোহালাকান্দার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার তরুণ প্রজন্ম চায় মাদকমুক্ত, শিক্ষিত ও আধুনিক এক ইউনিয়ন। স্থানীয় প্রশাসন, পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ফজল বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা ডেকে সব ওয়ার্ডের মেম্বারদের মতামত নেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেন। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ধারণা, নেতৃত্বের এই গতিশীল ধারা বজায় থাকলে গোহালাকান্দা অচিরেই জেলার অন্যতম সেরা ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

একটি ইউনিয়নকে সফলভাবে পরিচালনা করতে হলে সৎ সাহস ও দায়বদ্ধতার প্রয়োজন হয়। চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ফজলের নেতৃত্বে গোহালাকান্দা ইউনিয়ন সেই পথেই এগোচ্ছে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত পরিদর্শন করেন এবং প্রতিটি স্তরে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন থেকে শুরু করে জনস্বার্থের নানা বিষয় তিনি নিজ দায়িত্বে প্রশাসনের নজরে এনে সমাধান করার চেষ্টা করেন। ইউনিয়নবাসীর আশা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এই ইতিবাচক ধারা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ