হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত রাখার সহজ ৫ কৌশল: ব্যক্তিগত চ্যাট থাকবে নিরাপদে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, পারিবারিক ভিডিও থেকে শুরু করে দাপ্তরিক নানা তথ্য আদান-প্রদানে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশেও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় অংশের দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই মেসেজিং অ্যাপ। তবে একটু অসতর্ক হলেই একান্ত চ্যাট বা ব্যক্তিগত সংবেদনশীল ছবি অন্যের নজরে চলে যেতে পারে। অনেকেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের হাতে ফোন দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হওয়ার ভয়ে থাকেন। এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্যের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কিছু সুরক্ষা ফিচার চালু রেখেছে। সাধারণ কিছু সেটিংস বদলেই আপনি নিজের পুরো অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

প্রথমেই আসে নির্দিষ্ট কোনো চ্যাট গোপন রাখার ‘চ্যাট লক’ সুবিধা। আপনার কোনো সংবেদনশীল কথোপকথন আড়াল করতে চাইলে পুরো অ্যাপ লক না করেও কেবল সেই নির্দিষ্ট চ্যাটটি আলাদাভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়। এটি চালু করতে যে চ্যাটটি লক করবেন, সেটির নামের ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরে ওপরের তিনটি ডট মেনু থেকে ‘লক চ্যাট’ বেছে নিতে হবে। এরপর আঙুলের ছাপ বা ফেস আইডি সেট করলেই সেটি গোপন ফোল্ডারে চলে যাবে। আপনার আনলক করা ফোন অন্য কেউ ব্যবহার করলেও তিনি ওই চ্যাট পড়তে পারবেন না। পরে একইভাবে ‘আনলক চ্যাট’ নির্বাচন করে তা স্বাভাবিক তালিকায় আনা যায়।

শুধু একক চ্যাট নয়, পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপেও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কারণে ফোন হারিয়ে গেলে অপরাধীরা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাজার হাজার ডলার ($) সমমূল্যের আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আইফোনে ফেস আইডি বা টাচ আইডির মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ লক করে রাখলে অনুমতি ছাড়া কেউ অ্যাপে ঢুকতেই পারবে না। প্রযুক্তিবিদদের মতে, বায়োমেট্রিক লক চালু রাখলে অন্তত ৯০% ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি ও সাইবার ঝুঁকি এড়ানো যায়। এছাড়া কম্পিউটার বা ল্যাপটপে হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থা হলো নিজের প্রোফাইল ছবি গোপন রাখা। অপরিচিত মানুষের নজর থেকে নিজের প্রোফাইল ছবি গোপন রাখতে চান অনেকেই। ছবি সুরক্ষিত রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে ‘প্রাইভেসি’ অপশনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ‘প্রোফাইল ফটো’ বিভাগে গিয়ে ‘মাই কনট্যাক্টস’ বেছে নিলে শুধু ফোনে সংরক্ষিত নম্বরের পরিচিত ব্যক্তিরাই ছবিটি দেখতে পাবেন। এছাড়া ‘মাই কনট্যাক্টস এক্সেপ্ট’ দিয়ে নির্দিষ্ট কাউকে বাদ দেওয়া যায় এবং ‘নোবডি’ বা ‘নান’ নির্বাচন করে সবার কাছ থেকেই ছবি পুরোপুরি গোপন রাখা যায়। ফলে ছবি ডাউনলোড করে অপব্যবহারের সুযোগ থাকে না।

অত্যন্ত সংবেদনশীল ছবি, ভিডিও কিংবা ভয়েস মেসেজ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ‘ভিউ ওয়ানস’ সুবিধা চমৎকার কাজ করে। এই ফিচার ব্যবহার করে পাঠানো যেকোনো ফাইল প্রাপক কেবল একবার দেখতে বা শুনতে পারেন। ফাইলটি খোলার পরপরই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় এবং প্রাপকের গ্যালারিতে জমা হয় না। ফলে প্রেরকের অনুমতি ছাড়া ফাইলটি সংরক্ষণ বা অন্যের কাছে পাঠানোর কোনো উপায় থাকে না। তথ্যের ১০০% গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিরাপদ রাখতে এই অপশনটি নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত।

দৈনন্দিন নানা অনুভূতি শেয়ারের মাধ্যম হলো হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস। তবে চাইলে সব কনট্যাক্টের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের কাছে স্ট্যাটাস প্রকাশ করা যায়। স্ট্যাটাসের প্রাইভেসি অপশনে গিয়ে ‘অনলি শেয়ার উইথ’ নির্বাচন করে আপনি যাঁদের নির্বাচন করবেন, শুধু তাঁরাই সেই স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। এমনকি কনট্যাক্ট তালিকায় নম্বর সংরক্ষণ করা না থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম স্ট্যাটাসে মেনশন করার সুবিধাও চালু রয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত মুহূর্ত সবার সামনে উন্মুক্ত না হয়ে কাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছেই পৌঁছায়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ব্যবহারকারীদের জীবনের এক জরুরি বিষয়। সাইবার দুর্বৃত্তরা সবসময় সাধারণ ব্যবহারকারীর ছোটখাটো অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে ক্ষতি করতে চায়। তাই সাইবার জালিয়াতি থেকে নিরাপদ থাকতে নিয়মিত গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সর্বশেষ সংস্করণ আপডেট রাখা দরকার। কোনো ধরনের অনিরাপদ থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার না করে প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব নিরাপত্তাবলয় সক্রিয় রাখলেই আপনার ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষিত থাকবে। একটু সচেতন হলেই নিজের ভার্চুয়াল নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব।

সম্পর্কিত নিবন্ধ