ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন, একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু একদিন পেছাল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন এনেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানানো হয়। সংশোধিত সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সারা দেশের সব স্কুল ও কলেজে এই ছুটি কার্যকর থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই ২০২৬ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকায় এই আংশিক পরিবর্তন এনেছে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ছুটির তালিকাটি আংশিক সংশোধন করা হলো। আগের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর বন্ধের দিন রাখা হয়েছিল। সাধারণত হিজরি সনের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই যেকোনো ধর্মীয় দিবসে ছুটির চূড়ান্ত দিন নির্ধারিত হয়ে থাকে। তাই চাঁদ দেখা কমিটির সাম্প্রতিক ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ছুটির দিনটি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ছুটির পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সদ্য ভর্তি হওয়া একাদশ শ্রেণির লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম ক্লাস শুরুর তারিখ আগেই ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছিল শিক্ষা বোর্ড। তবে ওই দিন সারা দেশের সব ধরনের কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জরুরি এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর সময়সূচি একদিন পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে কলেজগুলো এখন জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি থাকায় নবীন শিক্ষার্থীরা ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ প্রাঙ্গণে পা রাখবে। বোর্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন করেছে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় পছন্দের কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করেছে প্রায় ৯৪% শিক্ষার্থী। অবশিষ্ট প্রায় ৬% শিক্ষার্থী তৃতীয় পর্যায়ের মাইগ্রেশন ও রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে নিজেদের কলেজ চূড়ান্ত করেছে।

অনলাইনে একাদশ শ্রেণির এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবার ডিজিটাল কারিগরি ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন ক্লাউড সার্ভার পরিচালনায় বিদেশি কারিগরি সহায়তা ও সাইবার নিরাপত্তার পেছনে সরকারিভাবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫,০০০মার্কিনডলার।একইসঙ্গেদেশেরবাইরেথাকাদূতাবাসওমিশনেপরিচালিতবাংলাদেশিস্কুলগুলোরশিক্ষার্থীদেরক্ষেত্রেঅনলাইনভর্তিফিনির্ধারণছিলগড়ে৫০মার্কিনডলার।একইসঙ্গেদেশেরবাইরেথাকাদূতাবাসওমিশনেপরিচালিতবাংলাদেশিস্কুলগুলোরশিক্ষার্থীদেরক্ষেত্রেঅনলাইনভর্তিফিনির্ধারণছিলগড়ে৫০থেকে ১০০$ ডলার। দেশের ভেতরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ফি ১০০% ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করায় পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই শেষ হয়েছে।

ছুটি একদিন এগিয়ে আসায় এবং ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি নামিদামি কলেজের অধ্যক্ষরা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটির দিনটিতে কলেজ ক্যাম্পাস সাজানো এবং নবীনবরণ আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়া আরও সহজ হবে। ক্লাসের প্রথম দিনেই নবাগত শিক্ষার্থীদের হাতে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, বার্ষিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং ক্লাসের বিস্তারিত রুটিন তুলে দেবেন শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রশাসন আশা করছে, ক্লাস শুরুর প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের সার্বিক উপস্থিতির হার অন্তত ৮৫%-এর বেশি থাকবে।

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম মুসলিম জাহানের প্রখ্যাত সাধক বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সাথে পালন করেন। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই নির্দিষ্ট ধর্মীয় ছুটি ছাড়া বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডারের অন্য কোনো তারিখে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যেন ক্লাস শুরুর নতুন সময়সূচি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিতে না পড়েন, সেজন্য প্রতিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব নোটিশ বোর্ডে তথ্যটি দ্রুত প্রকাশের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ