চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে এই বিশেষ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও বিশেষায়িত ইউনিটের ইনচার্জসহ সব পদমর্যাদার অফিসার এবং ফোর্সের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো প্যারেড ময়দান। চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুসজ্জিত অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালামি গ্রহণ করেন এবং পরে প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এবারের প্যারেডে দক্ষ অধিনায়কের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জনাব হিমন বিশ্বাস। তাঁর সুদৃঢ় কণ্ঠের কমান্ড ও গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের সদস্যরা চোখধাঁধানো মার্চপাস্ট প্রদর্শন করেন। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে পুলিশ সদস্যদের সুসংগঠিত পদচালনা ও শারীরিক কসরতে। প্যারেড ময়দানে অংশ নেওয়া প্রতিটি কন্টিনজেন্ট নিখুঁত শৃঙ্খলার সঙ্গে নির্ধারিত ধাপগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করে। জেলা পুলিশের সার্বিক শৃঙ্খলা, ঐক্য, কর্মক্ষমতা ও পেশাগত প্রস্তুতির এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে ওঠে এই প্যারেডের মাধ্যমে।
প্যারেড পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রতিটি দলের কাছে হেঁটে যান এবং সদস্যদের ইউনিফর্মের পরিচ্ছন্নতা, জুতার চমক, টার্ন আউট ও শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই করেন। যে সকল অফিসার ও ফোর্স শারীরিক ফিটনেস এবং পোশাকি শৃঙ্খলায় অনন্য মান বজায় রেখেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে আন্তরিক প্রশংসা ও অনুপ্রেরণা দেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে তিনি যোগ্য সদস্যদের বিশেষ সম্মানসূচক জিএস (গুড সার্ভিসেস) মার্ক প্রদান করেন এবং নগদ অর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেন। শীর্ষ পারফর্মারদের পুরস্কৃত করায় উপস্থিত সকল সদস্যের মধ্যে দায়িত্বশীলতার নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়।
প্যারেড মাঠে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আধুনিক পুলিশিং এবং পেশাগত দক্ষতার নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। জেলা পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এদিনের প্যারেডে বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ৯৫% সদস্যের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। বর্তমান যুগে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা উদ্যোগ চলছে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে পুলিশ আধুনিকায়নে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন $ (ডলার) বাজেট বরাদ্দ থাকে। সেই বৈশ্বিক মানদণ্ডকে সামনে রেখে জেলা পুলিশের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা ১০০% ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে এই ধরনের প্যারেড নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের চমৎকার পারফরম্যান্স ও শৃঙ্খলার জন্য গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি উপস্থিত সকল সদস্যের উদ্দেশে বাংলাদেশ পুলিশের মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) এবং খুলনা রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মহোদয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও বার্তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সব সময় জনগণের আস্থার প্রতীক হতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে কোনো রকম বিলম্ব ছাড়া আন্তরিক সেবা দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপার তাঁর নির্দেশনামূলক বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, প্যারেড মাঠের নিয়মানুবর্তিতা কেবল মাঠের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনেও তা পুরোপুরি প্রমাণ করতে হবে। সাধারণ নাগরিকেরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ভীতির শিকার না হন, সেদিকে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নে পুলিশকে আপসহীন হতে হবে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় অপরাধের হার অন্তত ২৫% কমিয়ে আনতে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিন-রাতের টহল আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ, বিভিন্ন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কোর্ট ইন্সপেক্টর, পুলিশ লাইন্সের আরআই এবং বিভিন্ন ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুশৃঙ্খল পরিবেশ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মূল্যবান দিকনির্দেশনা এবং উপস্থিত সদস্যদের পেশাগত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জেলা পুলিশের এই সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের ফলে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা থাকে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি নিষ্ঠা ও উদ্যম নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।
















