চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী দর্শনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা মিল্লাত হোসেনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোররাতে দর্শনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার দক্ষিণচাঁদপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। গ্রেপ্তার হওয়া মিল্লাত দর্শনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মোঃ জিয়াউল হকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে মিল্লাতের বাড়ি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে দর্শনা থানার উপ-পরিদর্শক ও সঙ্গীয় ফোর্স। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ তার বাড়ি শতভাগ (১০০%) কর্ডন করে তাকে বাগে আনে। মিল্লাতের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নাশকতার ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পর থেকে সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। মিল্লাত হোসেন দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর গোপনে বাড়ি ফিরেছেন—এমন খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত সেখানে হানা দেয়। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে মিল্লাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল।
সোমবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় মিল্লাত হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, নাশকতা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।
দর্শনা অঞ্চলটি ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অপরাধীরা সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করে থাকে। স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, অনেক পলাতক নেতা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ওপারে পাড়ি জমাতে দালালদের $৫০০ থেকে $১,০০০ ডলার পর্যন্ত চুক্তি করছিল। তবে পুলিশ ও বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে সীমান্ত এলাকায় এখন প্রায় ৪০% নিরাপত্তা বাড়িয়ে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মিল্লাত হোসেনও কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে পালানোর ছক কষছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
অভিযান প্রসঙ্গে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যদি দর্শনা এলাকার শান্তি নষ্ট করার কিংবা গোপন কোনো তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে, তবে পুলিশ তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের প্রায় ৯০% এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় নজরদারির আওতায় রয়েছে।
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই নেতার গ্রেপ্তারের খবরে সীমান্ত শহর দর্শনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত দিনগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা চাঁদাবাজি বা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, পুলিশ তাদের আইনের আওতায় আনায় এলাকায় শান্তি ফিরছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো পলাতক অপরাধীকে আশ্রয় বা প্রশ্রয় দিলে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















