মেহেরপুরে চার শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল জেলা ছাত্রশিবির

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মেহেরপুরে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মেহেরপুর জেলা শাখা। বুধবার শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কৃতি শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ভালো ফল করা প্রায় ৪৫০ জন কৃতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষার্থীরা মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মিলনায়তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুল এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীভর্তি উপহারের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, পুরো অনুষ্ঠান সফল করতে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রায় প্রায় ৪,২০০ ডলারের সমান। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন প্রতি বছরই করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শুধু পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আজকের মেধাবীদের সততা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করে দেশ সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, অথচ দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আজও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। বিশ্বের প্রায় ৮০% উন্নত দেশ তাদের তরুণদের মেধার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই এগিয়ে গেছে। তাই মেধার সঙ্গে নৈতিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি স্বনির্ভর ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সামনে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার কঠিন পথ রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই মেধার অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। এ সময় তিনি উচ্চশিক্ষার লড়াইয়ে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখার তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে আরেক বিশেষ অতিথি জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আকিব হাসান শিক্ষার্থীদের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার আহ্বান জানান।

মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যেতে হবে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার কমিয়ে পড়াশোনায় অন্তত ৯০% সময় ব্যয় করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী সোহেল রানা ডলার এবং জেলা অফিস সম্পাদক আবু রায়হান। তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং সততার সাথে বড় হওয়ার পরামর্শ দেন।

সংবর্ধনা পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানায়, এমন সুন্দর আয়োজনে ক্রেস্ট ও উপহার পেয়ে সে সামনের পড়াশোনার জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা পেয়েছে। সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৫% অভিভাবক জানান, এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং তাদের খারাপ পথ থেকে দূরে রাখবে।

মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এতে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। সমাপনী বক্তব্যে জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ না করে, সেজন্য ছাত্রশিবির মেধা বৃত্তি ও কল্যাণমূলক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। পরে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে বিকেল ৪টায় আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ