পটিয়ায় সাবেক ছাত্রনেতা আলী আকবর চৌধুরীর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রাজপথ কাঁপানো সাবেক ছাত্রনেতা মরহুম আলী আকবর চৌধুরীর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনটি উপলক্ষে পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে মরহুমের নিজ বাড়িতে দিনব্যাপী কোরআনখানি, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন তাঁর পরিবার ও সহযোদ্ধারা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে আজীবন নিবেদিতপ্রাণ এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে সকাল থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষী, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। মাত্র কয়েক বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী ও তৃণমূল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের এই দিনে তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।

মরহুম আলী আকবর চৌধুরী এক ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মরহুম আহমদ ছফার প্রথম পুত্র। তাঁর বাবা আজীবন বন্দর শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ে শতভাগ (১০০%) সততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। বাবার এই জনকল্যাণমুখী আদর্শ নিজের অন্তরে গভীরভাবে ধারণ করেছিলেন আলী আকবর। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক শিক্ষা থেকেই তিনি ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি মেধা ও সাহসিকতার মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী হুলাইন ছালেহ্ নূর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ওই কলেজের সর্বদলীয় ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে তিনি পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে ২০০০ সালের শুরু পর্যন্ত পটিয়ার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে কলেজপড়ুয়া প্রায় ৯০% শিক্ষার্থীকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে সক্রিয় রেখেছিলেন।

রাজনীতিতে যখন তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই মরণব্যাধি বাসা বাঁধে তাঁর শরীরে। ২০০৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি লিভার ও হার্টের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালান। এমনকি বিদেশে নিয়ে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার ($) সমমানের তহবিল জোগাড়ের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মাত্র অল্প বয়সেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে পটিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে।

২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিনটি স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রায় ৫ শতাধিক এতিম, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এলাকার মুরব্বি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, শিক্ষক এবং যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন। মোনাজাতে আলী আকবর চৌধুরীর জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও জান্নাত নসিবের জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিশেষ দোয়া করা হয়।

স্মৃতিচারণ সভায় বক্তারা আলী আকবর চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের সততা ও ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। চট্টগ্রাম থেকে মো. হাসানুর জামান বাবুসহ তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানান, আলী আকবর চৌধুরী কখনো পদের লোভে রাজনীতি করেননি। তিনি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বেতন দিতেন এবং অসহায় কর্মীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেন। এলাকার যেকোনো মানুষের বিপদ-আপদে তিনি শতভাগ (১০০%) উজাড় করে পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মতো নিঃস্বার্থ নেতার অবদান পটিয়ার মানুষ আজও ভোলেনি। মৃত্যুর দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ আজও তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে মনে রেখেছে।

সভা শেষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, আলী আকবর চৌধুরীর মতো নীতিবান নেতার আদর্শকে ধারণ করেই ছাত্রসমাজকে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো লোভ-লালসা ছাড়া মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল শিক্ষা। দিনটি উপলক্ষে পটিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানায়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ