চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নাশকতা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে দর্শনা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. তছিম উদ্দিন (৩৭)। তিনি দর্শনা থানার সদাবরী হাইস্কুলপাড়া এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলাম ও অফেলা খাতুন দম্পতির ছেলে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তছিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে দলটির ক্যাডারদের সংগঠিত করে এলাকায় বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির গভীর ছক আঁকছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা এলাকায় কিছু দুষ্কৃতকারী একত্র হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এর ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অবিলম্বে মাঠে নামে পুলিশ। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি বিশেষ চৌকস দল গঠিত হয়। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্যা আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সদাবরী গ্রামে অতর্কিত অভিযান চালান এবং চারপাশ ঘিরে ফেলে তছিম উদ্দিনকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তছিম। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তছিম উদ্দিন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছিলেন। তিনি দলের পুরোনো কিছু ক্যাডার ও উগ্র মেজাজের মানুষকে একত্র করে রাতের অন্ধকারে নিয়মিত গোপন মিটিং করতেন। সেখানে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া এবং দর্শনার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। দেশের সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা প্রায় ১০০% বিনষ্ট করে জনমনে চরম ভীতি ছড়ানোর হীন লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নেমেছিল।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, এই চক্রটি সীমান্তঘেঁষা দর্শনা অঞ্চল দিয়ে সরকারবিরোধী প্রচারণার রসদ ও অবৈধ অর্থ সংগ্রহের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বিদেশে পলাতক কিছু নেতার কাছ থেকে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ডলার ()ওঅন্যান্যবিদেশিমুদ্রাএনেএলাকায়সরকারবিরোধীকার্যক্রমেবিতরণকরাহচ্ছিল।সম্প্রতিপ্রায়২,৫০০থেকে৩,০০০মার্কিনডলার()ওঅন্যান্যবিদেশিমুদ্রাএনেএলাকায়সরকারবিরোধীকার্যক্রমেবিতরণকরাহচ্ছিল।সম্প্রতিপ্রায়২,৫০০থেকে৩,০০০মার্কিনডলার) সমমানের গোপন তহবিল স্থানীয়ভাবে সরকারবিরোধী কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে বলে পুলিশ প্রমাণ পায়। চক্রটির প্রায় ৮০% সদস্যকে এরই মধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তছিম তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নাশকতার অর্থের জোগান নিশ্চিত করতেন।
রোববার দুপুরে আইনগত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তছিম উদ্দিনকে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দর্শনা থানা পুলিশ আদালতকে বিষয়টি বিশদভাবে অবহিত করেছে এবং অধিকতর তথ্য পাওয়ার জন্য তাকে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের পেছনে নেপথ্যে থেকে কারা অর্থ, আশ্রয় ও বুদ্ধি দিয়ে সহায়তা করেছে, তা পুরোপুরি উদ্ঘাটন করতে তদন্তকারী দল তছিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড বার্তার ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।
অভিযান সম্পর্কে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দর্শনা সীমান্তবর্তী থানা হওয়ায় এখানে অপরাধীরা ছদ্মবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালায়। তবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দর্শনা থানা পুলিশ দিনরাত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো সদস্যকেই জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করতে দেওয়া হবে না। এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী সব চক্রান্ত নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি শতভাগ বজায় থাকবে। তিনি দেশের যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রুখতে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে তছিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সদাবরীসহ আশপাশের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি রাতের আঁধারে এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করায় গ্রামবাসী আতঙ্কে রাত কাটাতেন। এলাকার প্রায় ৯০% শান্তিপ্রিয় মানুষ পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড রুখে দিতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।
















