আলমডাঙ্গায় পুলিশের সাড়াঁশি অভিযান: ৮০ পিস ইয়াবাসহ মেহেরপুরের যুবক বাপ্পারাজ গ্রেফতার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা থেকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। এই অভিযানে পুলিশ শুধু মাদকই উদ্ধার করেনি, বরং মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই এলাকায় অপরাধ দমনে ১০০% প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে এবং মাদকের সামান্যতম উপস্থিতিও তারা সহ্য করবে না।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বুধবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। সময়টি ছিল ঠিক সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিট। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া সেতুর ওপর হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস দল চেকপোস্ট বসায়। পুলিশ সদস্যরা জানতেন যে, এই পথটি মাদক চোরাচালানের জন্য অপরাধীরা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। প্রতিটি সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় মেহেরপুরের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ থামার সংকেত দিলে চালক কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন, যা দেখে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।

চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তার দেহ ও সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে ৮০ (আশি) পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ইয়াবাগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষের চোখে না পড়ে। তবে পুলিশের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেনি এই মাদক ব্যবসায়ী। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মোঃ বাপ্পারাজ। তার বয়স মাত্র ২৮ বছর। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আড়পাড়া মাঝেরপাড়া গ্রামের মোঃ মোকলেছুর রহমানের ছেলে। মেহেরপুর থেকে এসে চুয়াডাঙ্গার ভেতরে এই মাদক সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল তার, যা পুলিশ পণ্ড করে দিয়েছে।

পুলিশ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি বাপ্পারাজের ব্যবহৃত ১০০০ সিসি বা এর কম ক্ষমতার অর্থাৎ ১০০ সিসি ইঞ্জিনের একটি নীল রঙের টিবিএস মেট্রো মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে যাতে তাদের সাধারণ যাত্রী বলে মনে হয়। জব্দকৃত মোটরসাইকেলটির বাজারমূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহন আইনের আওতায় এনে বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাপ্পারাজ এই মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদকের ছোট ছোট চালান পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের টু-আইসি সরদার হাছিবুর রহমানের নেতৃত্বে। তার সাথে অভিযানে অংশ নিয়েছেন ক্যাম্পের আরও বেশ কয়েকজন সাহসী পুলিশ সদস্য। একটি সফল অভিযানের পেছনে দলীয় প্রচেষ্টার গুরুত্ব অনেক। পুলিশ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং একে একে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই গ্রেফতারের ফলে হাটবোয়ালিয়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন।

গ্রেফতারকৃত বাপ্পারাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করার আগে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে। আলমডাঙ্গা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হবে এবং সেখান থেকেই তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বাপ্পারাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং এই ইয়াবার উৎস কোথায়, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আরও কিছু এলাকায় অভিযান চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাপ্পারাজের মতো যুবকরা যখন মাদকের পথে পা বাড়ায়, তখন একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এবং হাটবোয়ালিয়া ক্যাম্পের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে তারা যেন তাদের সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজর রাখেন। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তারা মনে করেন, নিয়মিত এ ধরনের তল্লাশি চালালে অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ