এসএসসি ২০২৬ উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: আবেদনের বিস্তারিত তথ্য

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশের মেধাবী অথচ অভাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছে। উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই ব্যাংকের বৃত্তির সহায়তায় তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে ব্যাংকটি। যারা আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে দুশ্চিন্তায় আছেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই বৃত্তির জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে। আপনি যদি সিটি করপোরেশন এলাকার কোনো স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন, তবে চতুর্থ বিষয় বাদে আপনার জিপিএ ৫.০০ থাকতে হবে। একইভাবে জেলা শহরের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যারা গ্রামীণ বা অনগ্রসর অঞ্চলের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। গ্রামের স্কুল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা জিপিএ ৪.৮৩ পেলেই আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চায় গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেধাবীরা যেন সমান সুযোগ পায়।

বৃত্তির নীতিমালায় কিছু বিশেষ দিক রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, যদি কোনো শিক্ষার্থী সরকারি কোনো বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি উৎস থেকে নিয়মিত বৃত্তি পায়, তবে সে এই ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তির জন্য অযোগ্য হবে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই মোট বৃত্তির ৯০% (নব্বই শতাংশ) বরাদ্দ রাখা হয়েছে গ্রাম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য। এ ছাড়া নারী শিক্ষার উন্নয়নে মোট বৃত্তির ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) সরাসরি ছাত্রীদের দেওয়া হবে। এটি ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্থিক সহায়তার পরিমাণ শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ সহায়ক হবে। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পর্যায়ে টানা দুই বছর আর্থিক সহায়তা পাবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ২,৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। পড়াশোনার খরচ শুধু মাসিক বৃত্তিতে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার্থীদের পাঠ্য উপকরণ কেনার জন্য বছরে আরও ২,৫০০ টাকা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য বছরে ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত অনুদান দেওয়া হবে। ফলে একজন শিক্ষার্থী সারা বছরে সব মিলিয়ে ৩০,০০০ টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তার পরিবারের বড় বোঝা কমিয়ে দেবে।

আবেদন করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। যারা আগ্রহী এবং যোগ্য, তাদের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট app.dutchbanglabank.com/DBBLScholarship-এ গিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন করার সময় আপনাকে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, বাবা ও মায়ের পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং এসএসসি পরীক্ষার নম্বরপত্র ও প্রশংসাপত্র। মনে রাখবেন, সরাসরি কোনো কাগজ বা ডাকযোগে কোনো আবেদন ব্যাংক গ্রহণ করবে না, সবকিছুই অনলাইনেই জমা দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আবেদন শেষ হওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তালিকায় নাম থাকলে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইট থেকে ‘Primary Selection Letter’ এবং নির্দেশিকা প্রিন্ট করে নেবেন। এরপর সেই প্রিন্ট কপিসহ সব মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকের যেকোনো শাখা বা মোবাইল ব্যাংকিং অফিসে উপস্থিত হতে হবে। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এই মহৎ উদ্যোগ অনেক দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর জীবন বদলে দেবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে, টাকার অভাবে কারো পড়াশোনা বন্ধ হওয়া উচিত নয়। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আবেদন করে আপনিও পেতে পারেন এই বিশেষ সুযোগ। চূড়ান্ত ফলাফল কবে দেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই নিয়মিত ব্যাংকের পোর্টালে চোখ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিজের স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধার কাছে হার না মেনে সময়মতো আবেদন করে ফেলুন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ