বীরগঞ্জে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: অসুস্থ মোশাররফের পাশে জুলাই যোদ্ধা রাসেল ইসলাম

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় এক উজ্জ্বল মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা মোঃ রাসেল ইসলাম। উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মোশাররফ করিম গত কিছু দিন ধরে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। অর্থাভাব আর শারীরিক যন্ত্রণায় যখন মোশাররফের পরিবার দিশেহারা, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আসন্ন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাসেল ইসলাম। সোমবার বিকেলে তিনি অসুস্থ মোশাররফ করিমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

মোঃ মোশাররফ করিম দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় একজন সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত। হুট করে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর শরীরের একাংশ প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ২০% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে মোশাররফের মতো রোগীরা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। মোশাররফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর নিয়মিত ওষুধ ও থেরাপির জন্য মাসে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়। এই পরিস্থিতিতে রাসেল ইসলামের মতো একজন তরুণ নেতার এগিয়ে আসা তাঁদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

মোঃ রাসেল ইসলাম কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নির্ভীক যোদ্ধা। আন্দোলনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থাকা এই নেতা এখন সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। রাসেল মনে করেন, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং বিপদের দিনে মানুষের পাশে থাকা। তিনি মোশাররফ করিমের বিছানার পাশে বসে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতেও মোশাররফের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি ১০০% সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বীরগঞ্জ উপজেলায় রাসেল ইসলামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এর মূল কারণ তাঁর জনসেবামূলক কাজ। গত কয়েক বছরে তিনি এলাকার অন্তত ৫০টিরও বেশি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনো অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার খরচ দিয়েছেন, আবার কখনো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ কিনে দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৩০% থেকে ৪০% বেড়ে গেছে। এমন কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মোশাররফের মতো রোগীদের চিকিৎসার খরচ জোগানো সত্যিই প্রশংসনীয়। এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, রাসেল ইসলামের মতো তরুণরা নেতৃত্বে এলে বীরগঞ্জের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যমতে, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এর নিচে নেমে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক সময় ৩০০০থেকে৫০০০ডলারের সমপরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয় যা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মোশাররফের পরিবার জানায়, রাসেল ইসলাম যে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তা দিয়ে তাঁর পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে। তারা রাসেলের জন্য দোয়া করে বলেন, “বিপদের সময় যে মানুষটি আমাদের কথা মনে রেখেছে, সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে অনেক বড় করেন।”

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোঃ রাসেল ইসলাম বলেন, “অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার আসল সার্থকতা। মোশাররফ কাকা আমাদের এলাকার মানুষ, তাঁর এই দুঃসময়ে ঘরে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা যদি প্রত্যেকে সমাজের মাত্র ১০% অসহায় মানুষের দায়িত্ব নেই, তবে কোনো মানুষই বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।” তিনি আরও জানান, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে তিনি বীরগঞ্জে একটি বিশেষ ‘চিকিৎসা সহায়তা তহবিল’ গঠন করবেন। যেখান থেকে গরিব ও দুস্থ রোগীদের জন্য সরাসরি নগদ টাকা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে।

রাসেল ইসলামের এই মানবিক কাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই যিনি মানুষের বিপদে দৌড়ে আসেন, জনপ্রতিনিধি হলে তিনি এলাকার ভোল পাল্টে দিতে পারেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে বা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন রাসেল ইসলামের এমন কাজ তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা। মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর ত্যাগের এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

পরিশেষে, মোশাররফ করিমের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করা হয়েছে। একই সাথে রাসেল ইসলামের এই ধারাবাহিক জনসেবা অব্যাহত থাকবে বলে গ্রামবাসী প্রত্যাশা করেন। বীরগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে রাসেলের এই নিবিড় সম্পর্ক আগামী দিনে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে স্থানীয় মুরুব্বিরা মনে করছেন। আর্তমানবতার সেবায় রাসেলের এই এগিয়ে আসা বীরগঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ