চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত পাহাড়তলী সাগরিকা এলাকায় শহীদ নগর সমাজের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে শহীদ নগর সমাজের নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এলাকাটির উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিকে বরণ করে নিতে এদিন সাগরিকা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ১০০% আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা ও তাদের শপথ গ্রহণ। সভায় বিশিষ্ট সমাজসেবক দোস্ত মোহাম্মদকে সভাপতি এবং এমরানুর রহমান তুষারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নতুন এই ৩৫ জন সদস্যের ওপর এলাকার প্রায় ৫০০০ মানুষের সামাজিক দেখভালের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। কমিটির সদস্যরা জানান, তারা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই দায়িত্ব নিয়েছেন। অভিষেক অনুষ্ঠানে নতুন নেতৃত্বকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘আট মহল্লা সমাজ পরিষদ’-এর শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে নেতৃত্বের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠা থাকা জরুরি। তারা নতুন কমিটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে আশা প্রকাশ করেন যে, এই কমিটি এলাকার ৯০% সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ১০০% দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর তাগিদ দেন তারা। এম এ মুসার সাবলীল ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছে।
শহীদ নগর সমাজের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এমরানুর রহমান তুষার তার বক্তব্যে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো এলাকার শান্তি রক্ষা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।” কমিটি এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, সমাজের বার্ষিক বাজেটের অন্তত ১৫% অংশ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এছাড়া এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে তারা প্রতি মাসে অন্তত ২ দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবেন। এমন জনহিতকর উদ্যোগের কথা শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
পাহাড়তলী সাগরিকা এলাকাটি একটি বাণিজ্যিক জোন হওয়ায় এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বাস। অনেক সময় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। নতুন কমিটির সভাপতি দোস্ত মোহাম্মদ অঙ্গীকার করেছেন যে, তারা পাড়া-মহল্লার ৮০% বিচার-সালিশ স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন, যাতে মানুষকে অযথা পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হতে না হয়। তিনি আরও জানান, সমাজের ফান্ড বা তহবিলের টাকা ১০০% স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় করা হবে এবং প্রতি ৩ মাস অন্তর আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হবে।
অভিষেক অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এক জমকালো নৈশভোজের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে স্থানীয় মুরুব্বিরা নতুন কমিটিকে আশীর্বাদ করেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে এলাকায় খেলাধুলা ও শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। শহীদ নগর সমাজের এই ৩৫ সদস্যের কমিটি আগামী ৩ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল এলাকাবাসীর ঐক্যের এক বড় বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়রা এখন বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন, এই নতুন নেতৃত্ব তাদের এলাকাকে একটি আদর্শ ও সুন্দর মহল্লায় রূপান্তর করবে।
















