চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: আহতদের পাশে দেবদূতের মতো দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মো: মিনারুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সরোজগঞ্জ বাজারে আজ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেল। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর ১২:৩০ মিনিট। সাদেমান বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি প্রতিদিনের মতোই কোলাহলপূর্ণ ছিল। কিন্তু মুহূর্তের একটি বিকট শব্দ পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস থমকে দেয়। বিদ্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসেন এবং চারদিকে আহাজারি শুরু হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি তাঁর সমস্ত কাজ ফেলে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে যান। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবকের মতো তিনি আহতদের পাশে দাঁড়ান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি জরুরি বিভাগে চলে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এমপি রাসেল প্রতিটি বিছানায় গিয়ে আহতদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সাহস জোগান। এই কঠিন সময়ে তিনি আহতদের স্বজনদের জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে আলাপকালে সংসদ সদস্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, আহতদের চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যে, আহতদের প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং রক্তের ক্রসম্যাচিংয়ের খরচ যেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করে। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যেন ১ টাকাও খরচ না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য তিনি জোর দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ১০০% সরবরাহ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ তহবিল থেকে এই খরচের জোগান দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ব্লাড ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আহতদের জন্য যদি ৫ ব্যাগ বা ১০ ব্যাগ নয়, বরং যত রক্তই লাগুক না কেন, তার ব্যবস্থা তিনি নিজে করবেন। তিনি বলেন, “রক্তের অভাবে কোনো প্রাণ বিপন্ন হতে দেওয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, আমার রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিটি জনশক্তি রক্তদানে প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে আমাদের কয়েকশ কর্মী লাইনে দাঁড়িয়ে রক্ত দেবে।” তাঁর এই বলিষ্ঠ ঘোষণা আহতদের পরিবারের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন যে, বিপদের এই মুহূর্তে তারা একা নন, বরং তাদের পাশে একজন শক্তিশালী অভিভাবক আছেন।

হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং আহতদের স্বজনদের উদ্দেশে এমপি রাসেল অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা আমাদের কারোরই কাম্য নয়, কিন্তু বিপদে ধৈর্য হারানো চলবে না। আপনারা মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখুন এবং ধৈর্য বা সবর ধারণ করুন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের সুচিকিৎসার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে শেষ পর্যন্ত তদারকি করব।” তিনি আহতদের পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দেন এবং বলেন যে, এখন মূল লক্ষ্য হলো রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাদেমান বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও এমপির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে চিকিৎসাসেবার গতি অনেক গুণ বেড়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরে তখন শত শত মানুষের ভিড়, কিন্তু এমপি রাসেলের নির্দেশনায় চিকিৎসকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্লাড ব্যাংকের সামনেও দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবীদের আনাগোনা, যা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সকলের দ্রুত এবং পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। সড়ক দুর্ঘটনার মতো এই অভিশাপ থেকে চুয়াডাঙ্গাবাসীকে রক্ষা করতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। আজকের এই ভয়াবহ দিনে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেলের মানবিক ভূমিকা চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহতরা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোকাবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ