ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আজ রোববার রাত ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা শপথ নেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নবনির্বাচিত এই ৪৯ জন নারী সংসদ সদস্যকে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ নেওয়ার মাধ্যমে এই নারী জনপ্রতিনিধিরা আগামী দিনের আইন প্রণয়ন ও দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে সরাসরি যুক্ত হলেন। সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে এই সংরক্ষিত আসনগুলো বণ্টন করা হয়েছে। শপথ নেওয়া ৪৯ জনের মধ্যে বিএনপি জোট থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী সদস্য রয়েছেন। এই জোটের ৩৬ জন নারী আজ শপথ নিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন নারী সদস্য শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ পাঠের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিয়ম মেনে সংসদ সচিবের কার্যালয়ে যান। সেখানে রক্ষিত নির্দিষ্ট শপথ বইয়ে তাঁরা হাসিমুখে নিজেদের স্বাক্ষর করেন। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা নিজেদের নতুন রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে নতুন নারী সংসদ সদস্যদের উৎসাহ দেন। তাঁর পাশাপাশি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য মোট ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এবার জামায়াত জোটের ভাগে ১৩টি নারী আসন পড়েছিল। কিন্তু আজ তাদের ১২ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। একটি আসন নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাদের একজন সদস্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা হননি। জামায়াত জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেছেন, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
অন্যদিকে, তাদের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি শুরুতে গ্রহণ করেননি। পরে আদালতের সরাসরি নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় এবং বাছাইয়ে তা বৈধ বলে বিবেচিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেনি।
সংসদে নারীদের এই শক্তিশালী উপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে সাধারণ জনগণ মনে করেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০% নারী। এই বিশাল নারী সমাজের অধিকার আদায়ে এই সংসদ সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। বর্তমান সরকার নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর ভীষণ জোর দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে সরকার প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। নতুন নারী সংসদ সদস্যরা এসব উন্নয়নমূলক কাজ আরও বেগবান করবেন বলে সবাই গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।
















