পরিবারের সাথে সামান্য রাগারাগি। আর সেই রাগের বশে এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল তরতাজা একটি প্রাণ। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিয়ের বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝগড়া করে রাব্বি হোসেন নামের ১৯ বছরের এক তরুণ বিষপান করে মারা গেছেন। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল সকালে উপজেলার দুধসর ইউনিয়নের ভাটই গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি হোসেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। তাদের মূল বাড়ি শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে। তবে রাব্বি অনেক দিন ধরে পরিবারের অন্যদের সাথে ভাটই গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকতেন। সেখানেই তিনি কাজ করতেন এবং বড় হয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে রাব্বির বিয়ে নিয়ে পরিবারের ভেতরে আলোচনা চলছিল। কিন্তু বিয়ের পাত্রী বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সাথে তার মতের অমিল দেখা দেয়। এই মতবিরোধ এক পর্যায়ে বড় ধরনের পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। শুক্রবার সকালে এই ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে রাব্বি অভিমানে ঘরে থাকা বিষ পান করে বসেন।
বিষপানের কিছুক্ষণ পরই রাব্বি জ্ঞান হারান। পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধারে ছুটে আসেন। অবস্থা খারাপ দেখে তারা সময় নষ্ট না করে রাব্বিকে পাশের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই তরুণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আমাদের দেশে পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, গ্রামগঞ্জে হওয়া আত্মহত্যার প্রায় ৪০% থেকে ৪৫% ঘটনার পেছনে থাকে এমন পারিবারিক টানাপোড়েন বা বিয়ের মতবিরোধ। বর্তমান বাজারে একটি সাধারণ বিয়ের আয়োজনেও অনেক সময় $৫০০ থেকে $১,০০০ ডলারের মতো খরচ হয়ে যায়, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে চরম আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে। এই চাপের কারণে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরিবারে বড় ধরনের ঝগড়া বাধে এবং তরুণরা আবেগ সামলাতে না পেরে এমন ভয়ংকর পথ বেছে নেয়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারা বিষপানে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আসল ঘটনা কী, তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখে পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই অকাল মৃত্যুর খবর ভাটই গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাব্বির পরিবারের সদস্যদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সামান্য একটু বোঝার ভুল বা রাগের কারণে এমন একটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় গ্রামের মানুষও অনেক অবাক ও উদ্বিগ্ন। একটু ধৈর্য ধরে নিজেদের মধ্যে কথা বললে হয়তো এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা খুব সহজেই এড়ানো যেত।
















